ঢাকা: মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয়েছে এক অনন্য জনসমুদ্রে, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে আসে সর্বস্তরের মানুষ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের হাতে ছিল ফুল, হৃদয়ে ছিল কৃতজ্ঞতা আর চোখে ছিল ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও কারও মাঝে ছিল না ক্লান্তি, বরং প্রতিটি মুখেই ছিল এক ধরনের গর্ব। এই দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা মানুষদের প্রতি সম্মান জানাতে পারার গর্ব।
শিশু থেকে বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী, সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সবাই যেন এক স্রোতে মিশে গিয়ে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। অনেককে দেখা গেছে লাল-সবুজের পতাকা হাতে, কেউবা মাথায় জাতীয় পতাকার ব্যান্ড পরে, আবার কেউ পরিবারের ছোটদের নিয়ে ইতিহাসের এই গৌরবময় দিনটি অনুভব করাতে এসেছেন। চারপাশে ভেসে এসেছে দেশাত্মবোধক গান, আর সেই সুরের সঙ্গে মিলেমিশে গেছে মানুষের পদচারণা ও আবেগের অনুরণন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছেন কিছুক্ষণ, যেন সেই ১৯৭১-এর স্মৃতিকে নিজের ভেতরে ধারণ করার এক নীরব প্রয়াস। কেউ কেউ শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন, আবার কেউ উচ্চারণ করেছেন স্বাধীনতার চেতনা ধরে রাখার অঙ্গীকার। এই উপস্থিতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মূল্যবোধ বহন করার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
দিনভর স্মৃতিসৌধ এলাকায় মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে, স্বাধীনতার ৫ দশক পরেও বাঙালির হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অটুট রয়েছে। বীর শহিদদের প্রতি এই সম্মান, এই ভালোবাসা এবং এই সম্মিলিত উপস্থিতিই যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়।এই দেশ রক্তে অর্জিত, আর সেই আত্মত্যাগ কখনো ভোলার নয়।