কিছুদিন আগেই বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ভিসা বন্ড চালু করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। সেই বন্ড জটিলতায় পড়তে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কয়েকটি দেশের ফুটবলাররাও। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ভিসা বন্ড দিতে হবে ফুটবলারদেরও!
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ভিসা বন্ড’ নীতির কারণে কয়েকটি দেশের ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে বন্ড বা জামানত দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে খেলোয়াড়দের যাতে জামানত না দিতে হয়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফিফা। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মেলেনি। আগামী ২ এপ্রিল থেকে ভিসা বন্ড কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঘোষণা অনুসারে বেশ কিছু দেশের নাগরিক, যারা ব্যবসায়িক বা পর্যটন ভিসায় (বি-১ এবং বি-২ ভিসা হিসেবে পরিচিত) যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করবেন, তাদের বড় অঙ্কের বন্ড বা জামানত জমা দিতে হবে। এই ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ প্রোগ্রামের আওতায় আছে ৫০টি দেশ, যার মধ্যে পাঁচটি দেশ বাছাইপর্ব উতরে এখন বিশ্বকাপে খেলার অপেক্ষায়। সব কটিই আফ্রিকার—আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরিকোস্ট ও তিউনিসিয়া।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ৫ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড বা জামানত জমা দিতে হবে। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন বলছে, ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামে এমন কোনো শব্দ উল্লেখ নেই, যা বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরের খেলোয়াড়দের জামানত রাখা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে। যেসব খেলোয়াড়ের বর্তমানে মার্কিন ভিসা নেই, তারা সম্ভবত টুর্নামেন্টের সময় বি-১ বা বি-২ ভিসার জন্য আবেদন করবেন। যার ফলে সাধারণ দর্শক–সমর্থকদের মতো তাঁদেরও জামানত জমা দিতে বলা হতে পারে।
এখন পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা ফিফা কেউই আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরিকোস্ট ও তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়দের ভিসা পেতে জামানত জমা দেওয়া থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নাম প্রকাশ না করা একাধিক সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক কর্মশালায় দলগুলোর পক্ষ থেকে ফিফার কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে, যাতে অংশগ্রহণকারী ফেডারেশনের অফিশিয়াল প্রতিনিধিদের এ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অফিশিয়াল প্রতিনিধিদের মধ্যে আছেন খেলোয়াড়, কোচ, সহযোগী স্টাফ ও ফেডারেশনের নির্বাহীরা। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এদের কোনো একটি অংশকে বা সবাইকে ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেবে কি না, সেটি আপাতত অস্পষ্ট। তবে দেশগুলোর দর্শকদের জন্য বন্ড নিয়ে কোনো আলোচনাই এ মুহূর্তে নেই।
ভিসা বন্ডের তালিকায় থাকা পাঁচ দেশের সব কটিকে অবশ্য বিশ্বকাপের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হবে না। আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই মেক্সিকোয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলে তবেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দরকার হবে। অন্য দলগুলোর মধ্যে তিউনিসিয়ার গ্রুপ পর্বের একটি এবং সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের দুটি করে ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন, ফাইনাল ১৯ জুলাই।