ঢাকা: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে মানুষ বলবে এ জাতির দ্বারা আর কিছু হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, আমরা অনেক রক্ত, ত্যাগের বিনিময়ে এখানে এসেছি। আমরা যেন জুলাই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল মগবাজারে জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৬৯ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিএনপি যখন দুই/তৃতীয়াংশ মেজরিটি পায় তখন স্পষ্টতই বোঝা যায় বিএনপির বহু লোকেরা এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পিং করেছেন। আপনারা যতই সংবিধান সংবিধান করেন, জনগণইতো স্বার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সংবিধান মেনেতো জুলাই আন্দোলন হয়নি, সংবিধান মেনেতো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। সংবিধান মেনেতো তারেক রহমানকে ১৭ বছর বাইরে রাখা হয়নি। যদি সংবিধানই থাকতো, তাহলে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগরতলা থাকতে হতো না। যতদিন পর্যন্ত জুলাই আন্দোলন না হয়েছে ততদিন পর্যন্ত তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন সাহেবতো দেশে আসতে পারেনি। এই যে গুম, খুন, আয়না ঘর। এসব বাতিল করতে চাচ্ছে। এটা খুবই আনফরচুনেট। কাজেই আমরা জাতির জন্য এই বেদনাদায়ক ইতিহাস সৃষ্টির পূর্বেই আমাদের সকলের সুমতি হোক এটা আমরা আশা করি।
এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির ভেতরে ছায়া সরকার আছে কি না এর জবাব তারাই দিতে পারবেন। আকাশে যে চাঁদ ওঠে, ওই চাঁদটাই আমরা দেখব। আপনার মনের মধ্যের কথা আমরা বের করতে পারব না। ভেতরের কথা টেনে বের করার দায়িত্ব আমার না। লক্ষণেই দেখা যাচ্ছে তারা (সরকার) আগের পজিশন থেকে সরে আসতেছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পদত্যাগ করব কি জন্য। আমরাতো মনে করছি যে, জুলাই আন্দোলনের পরে যে ত্রয়োদশ নির্বাচন হয়েছে সেখানে একটা দল বাদে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। আমরা শপথ নিয়েছি, বিএনপিও শপথ নিয়েছে। কাজেই এ প্রশ্ন আসে না যে আমরা সংসদে থাকবো কি থাকবো না। আমরা অবশ্যই সংসদে থাকব। সংসদে আমরা আইনের মধ্যে থেকে বিরোধিতা করব। এটা ভেতরে হবে, বাইরেও হবে। তবে আমরা চাই যেন (সংসদের) ভেতরেই কাজটা শেষ করতে পারি। রাস্তায়তো বহু হাটলাম। জেলে থাকলাম, আয়না ঘরে থাকলাম। আপনারা ১৭ বছর বাইরে থাকলেন, ভারতে থাকলেন। এই সংসদের একজন সদস্যের স্বামীকে এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। গুম খুনের বিষয়টা কোনো দলের সাথে লিমিটেড ছিল না। ইলিয়াস আলী তাদের নেতা। সে কোথায়। চৌধুরী আলম কোথায়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের আয়না ঘরে ছিল না? এত ত্যাগ, এত রক্তের পরও যদি এই জাতি আসল পথে না হাটতে পারে, এর থেকে দুঃখজনক আর কিছু হবে না।
সাইফুল আলম বলেন, ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস এর প্রতিনিধিরা চান যাতে জাতীয় সংসদকে অধিক কার্যকর করা যায়। আমরা তাদের বলেছি, আমাদের জাতীয় জীবনের সমস্ত আলাপ আলোচনার কেন্দ্র যেন জাতীয় সংসদ হয়। আমরা আলোচনা করেছি, সরকারি দল ও বিরোধীদল যেন তাদের ভূমিকা পালন করতে পারে।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট শিশির মনির, ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী এমপি।