কুমিল্লা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে জনজীবন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ কর্মস্থলের উদ্দেশে ফিরতে শুরু করায় কুমিল্লার বাসস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য চাপ দেখা গেছে। তবে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কোথাও বড় ধরনের যানজট নেই।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সরেজমিনে কুমিল্লার শাসনগাছা, জাঙ্গালিয়া, চকবাজার ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার, ক্যান্টনমেন্ট বাসস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শাসনগাছা বাসস্টেশনে কথা হয় ঢাকাগামী যাত্রী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষ, তাই আজই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। ভিড় একটু বেশি, তবে যানজট না থাকায় দ্রুত পৌঁছাতে পারব বলে আশা করছি।’
একই স্টেশনে অপেক্ষমাণ আরেক যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ‘টিকিট পেতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। যাত্রী বেশি থাকায় বাস কম মনে হচ্ছে। তবুও স্বস্তি হচ্ছে—রাস্তায় জ্যাম নেই।’
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার প্রায় ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহনের চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকামুখী গাড়ির সংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত পুরো সড়কে কোথাও তেমন কোন যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
মহাসড়কে চলাচলকারী একটি দূরপাল্লার বাসের চালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন,
‘ঈদের আগে যেমন যানজট ছিল, এখন তেমন কিছু নেই। গাড়ির চাপ আছে, কিন্তু রাস্তা ফাঁকা থাকায় স্বাভাবিক গতিতেই চলতে পারছি।’
আরেক পরিবহন চালক আব্দুল কাদের জানান, যাত্রী অনেক, কিন্তু গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক কম। এজন্য কিছু জায়গায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে এবার ঈদ-পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের যানজট এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে যাত্রী চাপ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা রিজিওনের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় কুমিল্লা অংশ আলহামদুলিল্লাহ যানজট মুক্ত ছিল। তবে ঈদের পর দিন পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনা ও গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ দুটো বিষয়ে আমরা মর্মাহত ও শোকাহত। আমরা চেষ্টা করছি এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে। তাই আমাদের নজরদারি ও দুর্ঘটনার কারন দুইদিকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।
সব মিলিয়ে, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়ে কুমিল্লার সড়ক ও স্টেশনগুলোতে ব্যস্ততা বাড়লেও এখনো স্বস্তির দিক স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যান চলাচল।