মহাখালী বাস টার্মিনালে নামা ব্যাংক কর্মকর্তা আরমান শেখ বলেন, অফিস সোমবার খুললেও আমি তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলাম। সন্তানদের নিয়ে গ্রামে শেষ কয়েকটা দিন দারুণ কেটেছে। আজ না ফিরলে আগামী রোববার থেকে কাজে যোগ দেওয়া কঠিন হতো।
বেনাপোল থেকে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী কাঞ্চন বলেন, অফিস খুলেছে গত সোমবার, কিন্তু বাড়তি ছুটি নেওয়ায় আজ ফিরলাম। যানজট এড়িয়ে পরিবারের সঙ্গে কয়েকটা দিন বেশি কাটাতে পারাটাই ছিল মূল লক্ষ্য।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টশনে রাজশাহী থেকে ফেরা আমবারিন খানম বলেন, সন্তানের স্কুল খুলবে রোববার। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে আজ ঢাকা এলাম।
জানা যায়, সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অফিস-আদালত আগে খুললেও, অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী নিজেদের মতো করে বাড়তি ছুটি নিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার হওয়ায় এবং আগামীকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই চেয়েছিলেন ছুটির পুরো সপ্তাহটি গ্রামের বাড়িতে কাটাতে। এছাড়া, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল এখনও পুরোপুরি খোলেনি। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তাই ধীরে ধীরেই সন্তানদের নিয়ে ঢাকা ফিরছেন অনেকে।
অন্যদিকে, ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়লেও ঢাকা শহর এখনও পুরোপুরি তার চিরচেনা রূপে ফেরেনি। অধিকাংশ বড় সড়ক এখনও তুলনামূলক ফাঁকা। তবে শপিং মল এবং বাজার এলাকাগুলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লার দোকানপাট খুলতে শুরু করায় জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
যাত্রীদের ঢাকা ফেরা কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটে পুলিশ ও র্যাবের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।