নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলীকে গত বছরের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও শনিবার (২৮ মার্চ) আটক করা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে বহু বিক্ষোভকারীসহ ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষও এই আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
অস্থিরতা তদন্তে গঠিত একটি প্যানেল অলী ও লেখককে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে বিচারের সুপারিশ করার পরই তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
এর একদিন আগে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী, ৩৫ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ বালেন শাহ শপথ গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক সংকটের জেরে হওয়া নির্বাচনে তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘তাদের আজ সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া চলবে।’
তবে অলী তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এটিকে চরিত্রহনন ও ঘৃণার রাজনীতি বলে মন্তব্য করেছেন। কমিশন সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল।
উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর জেন-জি বিক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় নামা আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের সময় অন্তত ১৯ জন নিহত হন। পরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং সংসদ ভবন, পুলিশ স্টেশন ও বিভিন্ন দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
অলী ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেও ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে সেই নির্বাচনে বালেন শাহর দল বড় জয় পেয়ে সরকার গঠন করে।