ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া ‘অচেনা’ বন্যপ্রাণীর হামলায় এক গৃহবধূসহ অন্তত ৫টি গবাদি পশু জখম হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে একটি বন্যপ্রাণী মারা গেছে। বন বিভাগ সেটিকে খেঁকশিয়াল দাবি করলেও স্থানীয়দের দাবি এটি ‘হায়না’ বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে মন্ডলপাড়া গ্রামের মইনুল হকের স্ত্রী আমেনা বেগম (৪০) বাড়ির কাজ শেষে বাইরে বের হলে দুটি বন্যপ্রাণী তাকে আক্রমণ করে। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে একটি প্রাণী তার নাকে কামড়ে দেয়। এরপর প্রাণী দুটি উন্মত্ত হয়ে সামনে থাকা প্রায় ৫টি গরুকে কামড় দিয়ে জখম করে।
আমেনার চিৎকারে গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে বন্যপ্রাণী দুটির সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে একটি প্রাণী পালিয়ে গেলেও অন্যটিকে ধরে ফেলেন উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনিতে প্রাণীটির মৃত্যু হলে সেটিকে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
আহত আমেনা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর থেকে গ্রামবাসীরা লাঠি ও মশাল হাতে দলবেঁধে পাহারা দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল হোসেন।
মৃত প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। ধনতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নাগর নদীতে কুমিরসহ নানা বিরল প্রাণী দেখা গেছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এটি হায়না।
তবে ঠাকুরগাঁও জেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান,প্রাণীটি দেখতে হায়নার মতো হলেও এটি আসলে বড় আকারের খেঁকশিয়াল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে প্রজনন ঋতু চলায় প্রাণীগুলো হিংস্র হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যপ্রাণীর এমন নজিরবিহীন হামলায় সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।