ঢাকা: দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। ২০২৫ সালে উত্থাপিত মোট বীমা দাবির মাত্র ৮.৫৬ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে, বিপরীতে ৯১.৪২ শতাংশ দাবি এখনো অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।
আইডিআরএ প্রকাশিত চারটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—২০২৫ সালের শেষে অনিষ্পন্ন বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৯৯ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন করে ১৭৪০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বীমা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর সঙ্গে আগের বছরের (২০২৪) ডিসেম্বর শেষে থাকা ৩০৫৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার অনিষ্পন্ন দাবি যুক্ত হয়ে মোট দায়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
এ অবস্থায় ২০২৫ সালে মোট ১২৪২ কোটি ২৫ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে বীমা কোম্পানিগুলো। তবে এ পরিমাণ পরিশোধ সামগ্রিক দাবির তুলনায় খুবই কম, ফলে খাতটিতে অনিষ্পন্ন দাবির চাপ বেড়েই চলেছে।
ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাবি পরিশোধের চিত্রে দেখা যায়—
- প্রথম প্রান্তিকে পরিশোধ: ২৯৫.২৯ কোটি টাকা
- দ্বিতীয় প্রান্তিকে: ৩০০.০১ কোটি টাকা
- তৃতীয় প্রান্তিকে: ২৭৪.৭৬ কোটি টাকা
- চতুর্থ প্রান্তিকে: ৩৭২.১৯ কোটি টাকা
অন্যদিকে নতুন দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রেও বছরের শেষ প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে একাই ৬০৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার দাবি উত্থাপন হয়, যা বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাবি নিষ্পত্তির হার ওঠানামা করেছে। প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ শতাংশ দাবি পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়—দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৮.৩২ শতাংশ, তৃতীয় প্রান্তিকে ৭.৫৫ শতাংশ এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৯.৩৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, নন-লাইফ বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিষ্পন্ন দাবি গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি নিশ্চিত না হলে এ খাতে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।