Sunday 29 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ছুটি শেষে চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৭ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৮

ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের টানা লম্বা ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ততায় ফিরেছে রাজধানী। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো চাকরির টানে ফিরে এসেছেন ইট-কাঁচের এই নগরীতে। এর ফলে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই চিরচেনা রূপে ফিরেছে তিলোত্তমা এই নগরী।

ব্যস্ত সড়কে মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা:
সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়দাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনালসহ কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও শাহবাগ এলাকায় কর্মজীবী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির আলসেমি কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে অফিসমুখী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি বাস স্টপেজ। বিগত কয়েকদিন রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকলেও আজ সকাল থেকেই দেখা দিয়েছে যানবাহনের চাপ।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময়টা খুব ভালো কেটেছে। কিন্তু ছুটির শেষে আজ প্রথম অফিস, তাই একটু আগেভাগেই বের হয়েছি। রাস্তায় গণপরিবহনের জন্য বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো ঢাকা শহর একসাথেই রাস্তায় নেমেছে। জ্যাম ফিরলেও প্রাণের স্পন্দন ফিরেছে শহরে।’

পরিবহন চালকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাসচালক মো. কাশেম জানান, গত এক সপ্তাহ রাস্তা একদম ফাঁকা ছিল। কোনো সিগন্যাল ছাড়াই গাড়ি চালাইছি। কিন্তু আজ সকাল থেইকাই ট্রাফিক জ্যাম শুরু হইছে। বাসে যাত্রীদের প্রচুর চাপ। মিরপুর থেইকা ফার্মগেট আসতেই এক ঘণ্টার উপরে সময় লাইগা গেল। ঢাকা আবার আগের মতো জটলা পাকাইতাছে।

এদিকে, মেট্রোরেলের অপেক্ষায় থাকা এক ব্যাংক কর্মকর্তা সাদমান সাকিব বলেন, ‘মাঝখানের দুই দিন ছুটি নেয়ায় এবার অনেকটা সময় নিয়ে গ্রামে কাটাতে পেরেছি। আজ থেকে অফিস শুরু, তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফিরে এসেছি। রাস্তায় আজ কিছুটা জ্যাম থাকলেও দীর্ঘ ছুটির পর কাজে ফেরার একটা আলাদা আনন্দ আছে।’

যানজট ও বর্তমান পরিস্থিতি:
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ঈদের ছুটির দিনগুলো অনেকটা আলসেমিতে কাটলেও, এখন ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে। সিএনজি অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেলগুলোর চাহিদাও ছিল বেশ।

আপাতত প্রিয়জনদের ছেড়ে আসার বিষণ্নতা থাকলেও, কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে নগরবাসীর প্রাত্যহিক জীবন।

দীর্ঘ ছুটির সমীকরণ ও ফেরার আমেজ:
এবারের ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটির ক্যালেন্ডার ছিল বেশ দীর্ঘ। নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের সাধারণ ছুটি থাকলেও তার আগে-পরে ১৯, ২০ এবং ২২, ২৩ মার্চ, এই চারদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি ছিল। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি নির্ধারিত ছিল।

তবে ছুটির আমেজ শুরু হয়েছিল আরও আগে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটির পর মাঝে ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিন অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও, সরকার নির্বাহী আদেশে ওইদিনও ছুটি ঘোষণা করে। এর ফলে ১৭ মার্চ থেকেই শুরু হয় টানা সাত দিনের বিশাল ছুটি, যা স্থায়ী হয় ২৩ মার্চ পর্যন্ত।

ঈদের এই টানা ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি এবং পরবর্তী দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আবার তিন দিনের বিরতি তৈরি হয়। রাজধানীর অনেক কর্মজীবী মাঝের দুই দিন (২৪ ও ২৫ মার্চ) ব্যক্তিগত ছুটি নিয়েছিলেন। এর ফলে টানা প্রায় ১২ থেকে ১৩ দিনের একটি লম্বা অবকাশ যাপন শেষে আজ থেকে পূর্ণোদ্যমে সরব হয়েছে ঢাকা। এতে আবারও প্রাণচঞ্চলতা ফিরে এসেছে রাজধানীতে।

সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর