কক্সবাজার: জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে কক্সবাজারের মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে স্পিডবোট চলাচল মারাত্মকভাবে কমছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্পিডবোট মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরই প্রভাবে কক্সবাজার ও মহেশখালী এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র তেল সংকট, বেড়েছে দাম।
চালকেরা জানান, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনিয়মিত সরবরাহের কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অধিকাংশ স্পিডবোট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে চলাচলকারী প্রায় ১৩০টি স্পিডবোটের দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৯০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১ হাজার লিটার। ফলে এই রুটে এখন ২৫ থেকে ৩০টি স্পিডবোট চলাচল করছে। এতে যাত্রীর চাপ বেড়েছে এবং ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা থাকলেও এখন তা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে।
স্পিডবোট মালিক শাহীন আরাফাত বলেন, ‘আগে আমার তিনটি বোট চলত, এখন একটি বন্ধ। তেলের দাম অস্বাভাবিক, সরবরাহও নেই।’
অপর মালিক মিসবাহ শিকদার জানান, তার ১৫টি বোটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দু’টি চালু রয়েছে।
তেল সংকট অব্যাহত থাকলে জরুরি রোগী পরিবহনও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এরইমধ্যে অনেক রোগীকে সময়মতো কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ তেলের দোকান বন্ধ। খোলা দোকানেও পর্যাপ্ত তেল নেই। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সীমিত সংখ্যক স্পিডবোট চলাচলের সুযোগে কিছু চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্পিডবোট মালিকদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার বিষয়ে মালিকরা আশ্বস্ত করেছেন। তবে তেল সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহেশখালীর মানুষের জন্য এই নৌপথ অন্যতম প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। প্রতিদিন কর্মস্থল, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে শত শত মানুষ এই রুট ব্যবহার করেন। বিকল্প দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন যাত্রীরা।
মহেশখালী-কক্সবাজার স্পিডবোট মালিক ও চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি ট্রিপে একটি স্পিডবোট চালাতে প্রায় ৮ লিটার পেট্রোল লাগে। কিন্তু বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ লিটার করে সরবরাহ পাওয়ায় একটি বোট দিনে একবারের বেশি যাতায়াত করতে পারছে না।’
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তেল সরবরাহ করেছে বলে জানিয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে নৌখাতে সহায়তা বা ভর্তুকি না দিলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।