ঢাকা: বাংলাদেশে যেসব জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার মধ্যে ৫৬.৯ শতাংশ কোম্পানি আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে মুনাফার প্রত্যাশা করছে। যেটাকে বিনিয়োগকারীদের দৃঢ় আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামীতে আরও জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চায়।
জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা (জেট্রো) পরিচালিত এক সমীক্ষার এ তথ্য মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) প্রকাশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে নিয়োজিত জাপান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জেট্রো সংস্থাটি ‘ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সমীক্ষা-২০২৫’ প্রকাশ করেছে।
সমীক্ষা প্রকাশ উপলক্ষ্যে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে জেট্রো ও ঢাকার জাপান দূতাবাস।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৫৬.৯ শতাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠান আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মুনাফার প্রত্যাশা করছে। একইসঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের দৃঢ় আস্থারই প্রতিফলন। অন্যদিকে ২৮.৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান লোকসানের আশঙ্কা করছে। আর চলতি বছর লাভ-লোকসান সমান করার প্রত্যাশা করছে ২১.৬ শতাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠান।
সমীক্ষা প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, জাপান এশিয়া অঞ্চলে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশকে উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বাংলাদেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি তিনি সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমণ করবেন।
আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার এখন ক্ষমতায় এসেছে। সেজন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের আরও ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত। আশা করি আগামী দিনে জাপানি বিনিয়োগকারীদের এখানে অংশগ্রহণ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান এ দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে, এই ইপিএ এখন পর্যন্ত জাপানের স্বাক্ষরিত সবচেয়ে ছাড়মূলক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী, কৃষক, উৎপাদক ও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবে।
আলোচনা সভায় অনলাইনে বক্তব্য দেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ইজুরু কোবেয়েশি। এতে আরও বক্তব্য দেন জেট্রোর বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজুইকি কাতাওকা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রমুখ।