ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর একাধিক উদ্যোগের কারণে রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছে বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ধারাবাহিক ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার( ৩১ মার্চ)জাতীয় রাজস্ব ভবন সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এনবিআর-এর একাধিক উদ্যোগের কারণে রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছে। বিশেষ করে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর—এই তিনটি বিভাগের কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন বন্ড ম্যানেজমেন্ট ও ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) যাচাই ব্যবস্থা চালুর ফলে পণ্যের কায়িক পরীক্ষা কমে এসেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি এনেছে। বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রমেও আধুনিকায়ন জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কাস্টমসের ASYCUDA সিস্টেমকে বন্দরের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ডাটার সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। ফলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হচ্ছে এবং রাজস্ব ফাঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর অডিট ব্যবস্থায়ও এসেছে বড় পরিবর্তন। ম্যানুয়াল অডিট নির্বাচন পদ্ধতি বাদ দিয়ে এখন ২০টি ঝুঁকিভিত্তিক সূচকের ওপর ভিত্তি করে অডিট করা হচ্ছে। এছাড়া ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অডিট চালুর মাধ্যমে বড় করদাতাদের আওতায় আনা হচ্ছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়কর খাতে ডিজিটালাইজেশন আরও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে শতভাগ অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যারা কাগজে রিটার্ন দিচ্ছেন, তাদের তথ্যও ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অডিট ও বিশ্লেষণ সহজ হয়।
তিনি বলেন, রাজস্ব রিপোর্টিং ব্যবস্থায়ও এসেছে স্বচ্ছতা। এনবিআর এখন সরাসরি ট্রেজারি ও iBAS++ সিস্টেমের ডাটা ব্যবহার করছে। এর ফলে Controller General of Accounts (সিজিএ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের সঙ্গে আর কোনো অসঙ্গতি থাকছে না। এছাড়া রাজস্ব আদায় বাড়াতে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে—আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস খাতে। পাশাপাশি ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উত্তরাধিকার কর (ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স) কার্যকর করার মাধ্যমেও রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।