ঢাকা: বিচারকদের সংগঠন ‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিশিয়াল রিফর্ম’ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইন হিসেবে পাসের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিচার বিভাগের সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে আট শতাধিক সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজদের সমন্বয়ে সংগঠনটি গঠিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবগঠিত সরকারসহ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংবিধানের নির্দেশনা এবং আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে প্রণীত। ১৯৯৯ সালের ওই রায়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করারী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। যদিও ২০০৭ সালে আংশিক পৃথকীকরণ হলেও অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিচার বিভাগের হাতে আসেনি।
সংগঠনটির দাবি, জারি করা অধ্যাদেশটি বিচার বিভাগের সেই অসম্পূর্ণ স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা উল্লেখ করে, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে। যা বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার ও জাতীয় ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জনগণের মৌলিক অধিকার এবং আইনের শাসনের ভিত্তি। তাই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এটাই প্রত্যাশা।