ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করবে এবং প্রতি বছর বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। আর যেহেতু এ প্রক্রিয়ায় নতুন করে টাকা ছাপানো হচ্ছে না, তাই মূল্যস্ফীতি হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবারে সবাইকে কার্ড দেওয়া কোনো দেশের পক্ষেই সম্ভব নয়, তাই প্রতি মাসে অধিক সংখ্যক নারী ফ্যামিলি কার্ড এবং অধিক সংখ্যক পুরুষ কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন। বাজেটে এই বিষয়টিকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
তিনি যুক্তি দেখান যে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও নারীরা সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশের বাইরে পাচার করবেন না, বরং তারা এই টাকা স্থানীয় বাজারে ব্যয় করবেন। একজন নারী এই অর্থ দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাদ্য সংস্থান বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এতে স্থানীয় মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বাড়বে এবং পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ যেহেতু স্থানীয় শিল্পের পণ্য ব্যবহার করেন, তাই এই উদ্যোগ অভ্যন্তরীণ শিল্পকেও মজবুত করবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।