Thursday 02 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা সরকারের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫০ | আপডেট: ২ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৩

ঢাকা: প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনয়ন এবং সেবাগ্রহীতা সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌসের সই করা এই পত্রে জানানো হয়েছে যে, দাফতরিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃদফতর সমন্বয় বাড়াতে এই সময়সীমা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

বিজ্ঞাপন

সরকারি এই নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকালের ওই নির্দিষ্ট ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে কোনো প্রকার মিটিং বা বাইরের কর্মসূচি রাখা যাবে না, যাতে দাফতরিক কাজের শুরুতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হন। মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করেছে যে, ইতিপূর্বে এই ধরনের নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটছে, যা কাম্য নয়। তাই এখন থেকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি তদারকি করতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন। এর পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারি দফতরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দিনের বেলা অফিসে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। জানালার পর্দা বা ব্লাইন্ড সরিয়ে বাইরের আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান বা কম্পিউটার সচল রাখা যাবে না এবং কক্ষ ত্যাগের সময় নিজ দায়িত্বে সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। করিডোর বা সিঁড়ির মতো সাধারণ স্থানগুলোতেও আলোকসজ্জা সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সকল নির্দেশনা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিধিমালাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং করার জন্য প্রতিটি দফতর ও সংস্থাকে অবিলম্বে একটি করে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ কোনো সরকারি নির্দেশনা ব্যতিরেকে সব ধরনের চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা পরিহার এবং জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দাফতরিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত অফিস কক্ষ ও করিডোর পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কাজের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর