Tuesday 26 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি: ৩ জনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫২ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫০

সোহাগী জাহান তনু।

কুমিল্লা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মামলার তদন্তে গতি আনতে সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় বিচারক পূর্বে সংগৃহীত ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্রে জানা যায়, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগেই তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে তা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তিনজন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে এবং পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একাধিক তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

এদিকে, আদালতে উপস্থিত হয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘দশ বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় ঘুরছি। আর পারছি না। আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’