ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী ও ‘সন্ত্রাসীদের’ গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এরমধ্যে কক্সবাজারে মানবপাচারকারী চক্রের দুইজন, খুলনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একজন, চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী হামলায় যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় একজন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ একজন এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলের মাছ ধরার ট্রলার থেকে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে হত্যাকারী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণ, প্রতারক ও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর এবং আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে পরিচালক, লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, দেশের অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ন্যায় র্যাব ফোর্সেসও দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগুলো তুলে ধরেন-
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী হামলায় যবুকের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্যতম আসামি মো. সবুজকে গত ৯ এপ্রিল র্যাব-৭ ও র্যাব-৯ এর একটি আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ও মাদক কারবারি মাহবুবুর রহমান ওরফে কাইল্লা রক্সিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ ও গজারিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা ও জিডির রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়াও কক্সবাজারের টেকনাফ থানার এলাকা থেকে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য নেয়ামত উল্লাহ এবং শাহ আলমকে গ্রেফতারসহ অপহরণের শিকার চার ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাব।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রপথ ব্যবহার করে একটি বড় মাদকের চালান মিয়ানমার সীমান্ত থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। পরবর্তীতে একটি মাছ ধরার নৌকাতে অভিযান পরিচালনা করে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ জনের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি এবং পাঁচজন রোহিঙ্গা। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে এটিই সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের ঘটনা। এছাড়াও কক্সবাজারের টেশনাফ থানায় গ্রেফতার আজম উল্লাহর বিরুদ্ধে দুটি মামলা, ফারুকের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা এবং সৈয়দ আলমের (রোহিঙ্গা) বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। ভবিষ্যতেও র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।
গত ৯ এপ্রিল খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মো. সুজন সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তির তথ্যমতে, তার বসতবাড়ির থেকে একটি শটগান, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর একাধিক থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইনে মামলাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল হতে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বমোট ৫১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার করে অবৈধভাবে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৯ লিটার ভোজ্যতেল মজুদ রাখার দায়ে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৫০ হাজারের অধিক ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।