ঢাকা: পতিত সরকারের শেষের দিকে গুরুতর অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে শরিয়া পরিচালিত অধিকাংশ ব্যাংকের ওপর আস্থার সংকট দেখা দেয়। আর সরকার বদলের পর ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর জনমনে নানা শঙ্কা সৃষ্টি হয়। কিন্তু শঙ্কার পরও গত এক বছরে ইসলামী ধারার ১০টা ব্যাংকে আমানত বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মানুষের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। আর মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ইসলামি শরিয়া পরিচালিত ব্যাংকগুলোতে আমানত বৃদ্ধি ২৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ২৩ কোটি টাকা। আর পরের মাস ফেব্রুয়ারি শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাড়িয়েছে ৪ লাখ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। গত মঙ্গলবার শুধু আমাদের ব্যাংকেই ৩০০ কোটি টাকা আমানত এসেছে। আমরা গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আশা করি ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ২৩ কোটি টাকা। আর পরের মাস ফেব্রুয়ারি শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাড়িয়েছে ৪ লাখ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ।
তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ১২ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। সেই এক বছরের ব্যবধানে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি বেড়েছে ২৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টেদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামি ব্যাংকগুলোর উপর মানুষের আস্থা বেড়েছে। তবে পতিত সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ব্যাংক লুট হয়েছে। এস আলমসহ একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। যা সরকার বদলের পর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এতে ইসলামি ব্যাংকেরগুলেরা প্রতি আস্থা কমে যায়। কিন্তু গত অন্তর্বর্তী সরকা রসময় থেকে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এখন সেই ধারা অব্রাহত রয়েছে। যার ফলে আমানত বাড়ছে।
অর্থনীতি গবেষক হেলাল আহমেদ খান জনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে আস্তে আস্তে গ্রাহকদের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি হয়। বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সমস্ত সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য যে সকল ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করে, সে থেকে জনসাধারণ বিশেষ করে আমানতকারীরা যে আস্থাটা হারিয়ে ফেলছিল, সে আস্থাটা আস্তে আস্তে ফিরে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা দেখেছি যে, বিগত ২০২৫ সালেই ব্যাংকগুলোর প্রতি মানুষের যে ধরণের একটা অনাস্থা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সে জায়গা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান রিফর্মগুলো সেক্ষেত্রে সেই গ্রাহকদের মধ্যে আরেকটু আশার সঞ্চার করেছে।
তিনি বলেন, এই সরকার গঠন হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই সরকারের যে ধরণের পদক্ষেপ মানুষ দেখছে, এতে মানুষ আসলে খুবই হতাশ হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাত নিয়ে ব্যাংক রেজুলেশন পাস করার কারণে আবারও গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে এবং গ্রাহকরা আবারও চিন্তা করছে যে এই ব্যাংকগুলো এস আলমের মতো বা অন্যান্য যারাই ব্যাংকগুলো থেকে টাকা লুটপাট করেছে, ঋণখেলাপী হয়েছে, আবারও যদি এভাবে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আবারও গ্রাহকদের সেই টাকা না পাওয়া বা সেই টাকাগুলো আবারও হাতছাড়া হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়। সেই কারণে গ্রাহকরা এখন আবারও সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে যে তারা ব্যাংকগুলোর ওপর কতটুকু আস্থা রাখবে এই বিষয়ে।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। শরিয়াহ নীতি ও প্রবিধি বিভাগ চালু করছে। মানুষের আস্থা বাড়ছে। আর ৫ শরিয়াহ ব্যাংক একীভুত করেছে। সরকার সব দায় নেবে। এতে টাকা তোলার প্রতি মনোযাগ কমেছে। এছাড়া সরকারের কিছু আমানত এইসব ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এতে আমানত বেড়েছে।
তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইসলামি ব্যাংক, শাখা ও উইন্ডোগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছিল ৯২ কোটি ডলার। আর পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে এগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৬৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর আমদানি বিল পরিশোধ কমেছে ২৩ কোটি ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা রফতানি আয়ও কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রফতানি আয় এসেছিল ৫৪ কোটি ডলার। আর পরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানি আয় এসেছে ৪৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানি আয় কমেছে ৫ কোটি ডলার।