Saturday 25 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তামাকে কর বাড়ছে না, তবে সিগারেটের দাম বাড়বে: এনবিআর চেয়ারম্যান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪০

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, তামাকে করহার আর বাড়বে না। তবে সিগারেটের দাম বাড়ানো হবে, যাতে এর ব্যবহার কমে আসে,সেই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ও বাড়ে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমসিসিআইয়ের প্রস্তাবনা উপস্থাপন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন. টোব্যাকো থেকে রেভেনিউ বাড়াতে হবে। টোব্যাকোকে আরও কস্টলি করতে হবে। কিন্তু যে ট্যাক্স রেট আছে ৮৩ পার্সেন্ট, সেটা আর বাড়াবো না।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অংশীজনের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই গত বছরের জানুয়ারিতে তামাক খাতে সম্পূরক শুল্ক আরেক দফায় বাড়ানো হয়। এর ফলে এ খাতে মোট করভার নজিরবিহীনভাবে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে উৎপাদন ও বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা আরও বলেন, ৮৩ শতাংশ করহার বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তামাক করের একটি। এর সঙ্গে ৪৭.৫ শতাংশ কর্পোরেট কর যুক্ত হলে বৈধ উৎপাদকদের ওপর মোট করের বোঝা প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এ অবস্থায় টেকসইভাবে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে অবৈধ উৎপাদন ও চোরাইপথে বিদেশি সিগারেট প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে।

তারা বলেন, শুল্ক-কর আরও বাড়ানো হলে সীমিত মুনাফা আরও কমে যাবে এবং উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমানো বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন। তাই কর বৃদ্ধি এখনই বন্ধ করা উচিত। কর বাড়াতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। বিশ্ব কোনদিকে যাচ্ছে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার।

এ-সম্পর্কিত প্রস্তাব ও বিশ্লেষণ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নিয়ে আসুন, আমরা আলোচনা করব। তবে আপনাদের কমিটমেন্ট করতে হবে – রেভিনিউ সিগনিফিক্যান্টলি বাড়বে এবং সিগারেটের দামও বাড়বে। দুটি বিষয় – সিগারেটের দাম বাড়বে, মানুষ কম খাবে। আর হচ্ছে সিগারেট থেকে রেভেনিউও সিগনিফিক্যান্টলি বাড়বে। এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। ওয়ার্ল্ডে কারা কারা করে বলেন, আমরা ওইদিকেই যাব।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল কর কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে ধারাবাহিক রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য একটি স্থিতিশীল নীতি কাঠামো প্রয়োজন। পাশাপাশি অবৈধ বাণিজ্য রোধে নীতিগত সংস্কার ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু করা এবং মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে আবগারি শুল্ক ও মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করছে।