।। জাহিদ-ই-হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।
১৯৯২ সালে তার অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেছিল পাকিস্তান। এর চার বছর পর ১৯৯৬ সালে পরিচয় বদলে তিনি পা রাখেন রাজনীতির ময়দানে। ২২ বছর পর মাঠের সেই নায়ক এবার দেশটির জাতীয় নির্বাচনেও ‘চ্যাম্পিয়ন’! তিনি ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন অলরাউন্ডার ইমরান খান।
মাঠ বদলালেও ইমরান খান ‘নায়ক’ হয়েছেন ক্রিকেটের পর জাতীয় রাজনীতিতেও। ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা ক্রিকেটারের অভাব নেই। তবে কোনো ক্রিকেটারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কৃতিত্ব এই প্রথম।
কাকতালীয় হোক আর না হোক, ‘২২’ সংখ্যাটা লাকি চার্ম হয়ে ধরা দিয়েছে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খানের জন্য। ১৯৭০ সালে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলে। এর ২২ বছর পর পাকিস্তানকে উপহার দিয়েছিলেন স্বপ্নের ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা। আবার রাজনীতিতে তিনি পা রাখলেন ১৯৯৬ সালে। এর ঠিক ২২ বছর পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বনে গেলেন একসময়ের এই ‘প্লে-বয়’। একটু কাকতালীয়ই বটে!
পুরো নাম আহমেদ খান নিয়াজীয় ইমরান। ইমরান খান হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার ১৯৫২ সালে লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে (১৯৬৮) লাহোরের হয়ে সারগোরার বিপক্ষে প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তার দুই বছর পরেই জাতীয় দলের ডাক পান ইমরান খান।
একবার সুযোগ পেয়ে জাতীয় দলের নিজের স্থান পোক্ত করতে সময় নেননি তিনি। দেখতে দেখতে হয়ে উঠলেন দলের অন্যতম নির্ভরতার নাম। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের ক্রিকেট ঝাণ্ডা উড়ালেন নেতৃত্ব দিয়ে। কে তখন জানত, এই মাঠের নায়কই একদিন দেশের ‘নায়ক’ হবেন!
বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পর তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি গঠন করে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সংবাদ শিরোনাম হন তিনি। অবশ্য ক্রিকেট ছাড়াও বিভিন্ন কারণে গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়াটা তার জন্য নতুন কিছু ছিল না। ৬৫ বছর বয়সে বিয়ে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, জঙ্গিবাদের পক্ষে উদারপন্থী অবস্থান, প্রকাশ্যে ‘আমেরিকার সমালোচনা’ তাকে আলোচনা-সমালোচনায় এনেছে বহুবার। তার ‘নতুন পাকিস্তান’ স্লোগান এখন তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে। ২০১২ সালেও এশিয়া সোসাইটির জরিপে ‘এশিয়া’স পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন তিনি। যদিও তার পরের নির্বাচনেই (গত নির্বাচনে) দ্বিতীয় হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু এবারে আর ঠেকানো যায়নি তাকে।
রাজনীতির ময়দানেও ইমরানকে নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। সেসব বিতর্ক পেরিয়েই এখন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। দেশটির সংকটকালে একজন ক্রিকেটারের ওপর তরুণদের ভোট পড়েছে, এটাও বা ক্রিকেট বিশ্বের জন্য কম কী!
আর সে কারণেই যত বিতর্কই থাক, ইমরানের খানের ‘রাজনীতির ময়দান’ জয়ে ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছেন তাকে।
That was one inspiring speech, had the honesty and sincerity of a leader who feels the people of Pakistan
My daughter and the children of this generation are going to be part of #NayaPakistan. No words to describe that feeling. Congrats @ImranKhanPTI I’m praying for ur success IA— Wahab Riaz (@WahabViki) July 26, 2018
Congratulations Pakistan.We finally have a true leader & 1 most admired around the world.His sincerity & hard work reflects his success in anything he does. Sport, a hospital & now leading the country. I welcome my 1 & only inspiration @ImranKhanPTI as my country’s Prime Minister
— Azhar Mahmood (@AzharMahmood11) July 26, 2018
Congratulations @ImranKhanPTI on winning #Elections2018
Lets forget which party we were with and start supporting Imran khan today to rebulid Pakistan and make the future of our country bright. #KPK #NayaPakistan— Junaid khan (@JunaidkhanREAL) July 26, 2018
পাকিস্তানের নেতৃত্বে ইমরান খান
মদিনার আদলে, জিন্নার স্বপ্নের পাকিস্তান গড়ার প্রত্যয় ইমরানের
সারাবাংলা/জেএইচ/টিআর