Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

এই সরকারকে উচ্চস্বরে বকা দেওয়া যায়, সেটা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২৬ ১৫:৫৭

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাংবাদিক রিয়াজ ভাই যখন সরকারকে বকা দিচ্ছিলেন উনার গলা অনেক চড়ে গেছে। বকার সময় কোনো সেন্সর না করেই বকা দিচ্ছেন। এটা আমাদের প্রতি স্বীকৃতি যে এই সরকারকে উচ্চৈঃস্বরে বকা দেওয়া যায়। আমরা চাই সেটা অব্যাহত থাকবে।

রোববার (৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‎’বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো ও টিআইবির যৌথ আয়োজনে ‘জন আস্থা পুনর্নির্মাণ: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন স্বৈর শাসনের মধ্যে ছিলাম। মিডিয়ার শুধু একটা কালচারাল পরিবর্তন হয়েছে। মিডিয়াকে নিজেদের জায়গা থেকে নিজেদেরকে আত্মসমালোচনা করা দরকার। শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপির পক্ষ নিয়ে যেভাবে সংবাদ করা হয়েছে সেটা কিন্তু দল থেকে বলে দেওয়া হয়নি। আমরা আসলে রাতারাতি কিছু করতে না পারলেও খুব দ্রুত কিছু করতে চাই।

তিনি বলেন, ৩০০ কোটি টাকা বাজেট থাকে বিটিভির জন্য। কিন্তু এটা আয় করে ১৬০০ কোটি টাকা। বিটিভি যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে সেই উদ্যোগ এই সরকার নিবে। গায়ের জোরে কিছু করে লাভ হবে না। আমরা একটা ভিন্ন কিছু দেখতে পারবো এবার। সম্পাদক পরিষদকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক না থাকলেও শত্রুতা কেন হবে। কাজেই আমরা মিডিয়ার জন্য ভালো কিছুই করবো বলে আশা করছি।

সভায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেছেন, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন তলানিতে নেমে গেছে, যার প্রধান কারণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারা। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে সরকারের হস্তক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপপ্রচার, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে এমন প্রেক্ষাপটে নানামুখী নিয়ন্ত্রণ, নিপীড়ন ও করপোরেট স্বার্থের চাপে গণমাধ্যম তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না

কামাল আহমেদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আপাতত সরকারি চাপ অনুভূত না হলেও মালিকপক্ষ ও করপোরেট স্বার্থের প্রভাব এখনো বিদ্যমান। রাজনৈতিক, গোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক স্বার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা বয়ান তৈরি করে এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।

সভায় ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেন, বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাপে রয়েছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তিনি সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সূচকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এমন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রয়োজন যা গণমাধ্যমকে দমন না করে বরং সহায়তা করবে, যেমনটি সুইডেনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন সরকারের অধীনে এই পরিস্থিতি উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার।

সভায় সভাপতিত্ব করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‎সভায় আরও বক্তব্য দেন – ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ড. রুদিগর লোটেজ, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি পাওলা কেস্ট্রো সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিভিল সোসাইটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে বর্তমানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে আইনি সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক চাপ অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের ভিড়ে সত্য সংবাদ তুলে ধরা এখন বড় লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় উঠে এসেছে, বর্তমানে ডিজিটাল ইকোসিস্টেম বা ইন্টারনেট জগৎ বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা এবং ভুল তথ্যের এক বিশাল চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পেশাদার সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর আইনি ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা। গণমাধ্যম মালিকদের একচেটিয়া প্রভাব এবং সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সম্পাদকীয় স্বাধীনতাকে খর্ব করছে বলে মনে করছেন তারা।

 

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর