ঢাকা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত নিয়ে প্রস্তুত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা ‘এশিয়া স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম-সাইজড এন্টারপ্রাইজ মনিটর (এএসএম) ২০২৬’-এর জন্য বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য চেয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
এডিবির অনুরোধ পাওয়ার পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানিগুলোর তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট তথ্য হালনাগাদ ও যাচাইয়ের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এডিবি জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ‘এএসএম ২০২৬’ বর্তমানে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো- এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৬টি উন্নয়নশীল সদস্য দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) খাতের উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করা।
চিঠিতে সংস্থাটি বলেছে, গত বছর প্রকাশিত ২০২৫ সংস্করণে বাংলাদেশের দেওয়া সহযোগিতা ও তথ্য সরবরাহের বিষয়টি তারা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই ধারাবাহিকতায় চলতি সংস্করণের জন্যও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এডিবির মতে, উচ্চমানের একটি নলেজ প্রোডাক্ট তৈরিতে সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের অর্থায়ন সহজ করতে এবং নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, এডিবি’র চিঠির পর কমিশন ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই)—এসএমই খাতের প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার জন্য বলা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত এক্সেল ফরম্যাটে সর্বশেষ অর্থবছরের তথ্য জমা দিতে হবে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১৫ মের মধ্যে এডিবির নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাবে বিএসইসি।
এদিকে, এডিবি পরিকল্পনা করেছে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অংশগ্রহণকারী কোনো একটি দেশে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘এসএমই মনিটর’ প্রকাশ করবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি খাতের শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরতে এই তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।