Friday 25 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিএবি’র সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর / ব্যাংক রেগুলেশন আইন অনুযায়ী লুটেরা আর ফিরতে পারবে না

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ মে ২০২৬ ১৮:৫৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: সরকার যে ব্যাংক রেগুলেশন আইন করেছে, তার সব শর্ত পূরণ করলে কোনোভাবেই অতীতের অনিয়মে জড়িতরা বা লুটেরা শ্রেণির কেউ আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারবে না- ব‌লে ব্যাংকারদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন গভর্নর।

সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিএবি চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবন এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮-ক ধারা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছু উদ্বেগ থাকলেও গভর্নর বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় এমন কোনো সুযোগ নেই এবং আলোচিত ধারা এখন কার্যকর অবস্থায় নেই।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বিএবি চেয়ারম্যান বলেন, তবে এই সহায়তা সবার জন্য নয়—যেসব প্রতিষ্ঠান প্রকৃতভাবে ব্যবসা করছে, কিন্তু চলতি মূলধনের অভাবে সংকটে পড়েছে, কেবল তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের দায় এবং ব্যবসার বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। ঢালাওভাবে সহায়তা না দিয়ে কার্যকর ও সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএবি চেয়ারম্যান বলেন, দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত আগের মতোই বহাল রয়েছে এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা করার দাবি জানান বিএবি নেতারা। তাদের মতে, এতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।

শিল্প উৎপাদনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনের জ্বালানি ঘাটতির কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, ফলে ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বৈঠকে ব্যাংক ও শিল্প খাতের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বাস দিয়েছে—নীতিগত সহায়তা থাকবে, তবে যেকোনো আর্থিক সুবিধা কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই দেওয়া হবে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো