চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া মরিয়ম বেগম (৫৫) নামের এক গৃহ শিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার কানের দুল ছেঁড়া
অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছে, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী-স্ত্রীসহ এক স্বর্ণকারকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মরিয়ম বেগম নামো শংকরবাটি উজ্জ্বল পাড়া এলাকার মোসাদ্দেক হোসেন কালামের স্ত্রী। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে চৌকাপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মোসা. সুমি খাতুনের (২৮) বাড়ির ভেতরে একটি বস্তাবন্দী মরদেহ দেখতে পান বাড়ির লোকজন। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম প্রতিদিন সকালে সুমি খাতুনের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মিথীলাকে তার নিজের বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমি খাতুন বিরুদ্ধে এর আগেও ৩-৪ জন নারীকে জুস খাইয়ে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল। মরিয়ম বেগমের কানের দুল ছেঁড়া থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন মেলায় স্থানীয়দের ধারণা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই সুমি ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তৎপরতা শুরু করেছে।
তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মূল সন্দেহভাজন মোসা. সুমি খাতুন (২৮), তার স্বামী মো. রুবেল এবং রাজারামপুর মাস্টার পাড়ার শ্রী ছবি চন্দ্র শাহর ছেলে স্বর্ণকার দিপককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং স্বর্ণকার দিপকের কাছে থাকা কানের দুল পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।