ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় সোহেলী তামান্নাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথিকে (৩৫) গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান বিথিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য শনিবার দিন ধার্য করেছিলেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মামলার ঘটনায় বিথির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাই তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।
এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে বিথি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন। আমার ছোট বাচ্চা আছে। বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে চলি, এত টাকা কোথায় পাব?
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য, শুধু বাবার পরিচয়ের কারণেই আমাকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের একটি মেয়ে আছে। আগেও এক মামলায় জামিন পেয়েছিলাম, পরে আবার নতুন মামলা দেওয়া হয়েছে। কেন এত মামলা দেওয়া হচ্ছে জানি না। বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি পার্টটাইম চাকরির জন্য সিলেটে ছিলেন বলেও দাবি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভাটারা থানাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে বের হওয়া একটি মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে সোহেলী তামান্না গুরুতর আহত হন। এতে তার বাম হাতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোহেলী তামান্না নিজেই বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে খাদিজা ইয়াসমিন বিথির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।