চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় এই ঘটনায় আলোচনায় আসা মো. ইয়াসিনসহ ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামির সংখ্যা ২০০ জন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম। এর আগে সোমবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

– ছবি : সংগৃহীত
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার পাঁচজন এবং সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগ এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার পাঁচজন এবং সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।
এর আগে গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় চৌকির দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য অন্তত চারটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

– ছবি : সংগৃহীত
এদিকে হামলার পর র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলায় একে-৪৭-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত আগামী ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। যে ক্যাম্পটি সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেটি তারই উদ্বোধন করার কথা ছিল।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবি’র নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
র্যাবের দাবি, যাকে গ্রেফতার করতে টিমটি গিয়েছিল, তিনি একাধিক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি এবং অস্ত্র লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, হামলাকারীদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পাহাড়ি দখল গোষ্ঠী এবং অস্ত্র বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন থাকতে পারে।
গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য এ অভিযানে অংশ নেয়। এ অভিযান শেষে এলাকাটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে যৌথবাহিনী। সেখানে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেই থেকে ওই এলাকা শান্ত থাকলেও রোববার রাতে আবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।