ঢাকা: চিরচেনা যানজট আর কোলাহলের ঢাকা এখন পুরোপুরি শান্ত ও নীরব। পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটির শেষ দিনে আজ রোববার (৩১ মে) রাজধানী ঢাকা যেন এক অন্য রকম রূপ ধারণ করেছে। মোড়ে মোড়ে নেই বাসের দীর্ঘ সারি, নেই চিরচেনা হর্নের কানফাটানো আওয়াজ কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ায় পুরো শহর এখন ফাঁকা। তবে এই স্বস্তির দিন আজই শেষ হচ্ছে, কারণ আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকেই আবার খুলে যাচ্ছে সব অফিস-আদালত, ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কর্মব্যস্ত মানুষ আবারও ফিরতে শুরু করবে এই যান্ত্রিক শহরে। তার আগে ছুটির শেষ মুহূর্তটুকু মনের মতো করে উপভোগ করছেন ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ঈদের ছুটিতে থেকে যাওয়া সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা থাকায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করা যাচ্ছে মাত্র কয়েক মিনিটেই, যা অন্য সময়ে ভাবাই যায় না।
ফাঁকা ঢাকার এই শান্ত রূপ দেখে নগরবাসীর চোখে-মুখে এখন শুধুই স্বস্তির আমেজ। ধানমন্ডি থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সপরিবারে মিরপুরে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী আহমেদ শরীফ। ফাঁকা ঢাকায় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য সময়ে ধানমন্ডি থেকে মিরপুর যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লেগে যায়। আজকে মাত্র ১৫ মিনিটে চলে এসেছি। কোনো ট্রাফিক জ্যাম নেই, কোথাও কোনো ভোগান্তি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ঢাকা যদি সারা বছর এমন থাকত, তাহলে মানুষের কর্মঘণ্টা অনেক বেঁচে যেত এবং জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হতো। ছুটির শেষ দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে জ্যামহীন শহরে ঘুরতে পেরে দারুণ লাগছে বলে তিনি জানান।
একই রকম স্বস্তি দেখা গেছে গণপরিবহনের চালকদের মধ্যেও। সদরঘাট থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলকারী আজমেরী গ্লোরি ব্যানারসের বাস চালক মো. রফিক বলেন, অন্য দিনগুলোতে জ্যামের কারণে সারাদিনে দুইটার বেশি ট্রিপ মারা সম্ভব হয় না। আজকে রাস্তা পুরোপুরি ফাঁকা থাকায় খুব দ্রুত যাতায়াত করতে পারছি। তিনি আরও বলেন, সিগন্যালে বসে বসে যে গ্যাস ও তেল নষ্ট হতো, আজ তা হচ্ছে না। যাত্রী কিছুটা কম হলেও শান্তিতে গাড়ি চালাতে পারছি, কোনো মানসিক চাপ নেই। তবে আগামীকাল থেকে অফিস খুললে শহরের এই ফাঁকা ভাব আর থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকুরিজীবী নুসরাত জাহান। ফাঁকা শহরে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঢাকা সত্যিই চমৎকার এক শহরে পরিণত হয়। রাস্তায় বের হলেই মন ভালো হয়ে যায়, কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আগামীকাল থেকে আবার চেনা যানজটে ফিরতে হবে ভেবে কিছুটা খারাপ লাগছে।’ তবে ছুটির শেষ এই দিনটিতে জ্যামমুক্ত শহরে ঘুরতে পেরে নাগরিক জীবনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
ফাঁকা ঢাকার এই স্বস্তিময় পরিবেশ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার। এরপরই প্রিয় শহর আবার ফিরে পাবে তার চিরচেনা রূপ, ব্যস্ততা আর চিরকালের যানজট। আগামীকাল সকাল থেকে আবারোও একটু একটু করে বাড়তে থাকবে, চিরচেনা ট্রাফিক জ্যাম, হর্নের শব্দ আর তীব্র ব্যস্ততায় আবারও প্রাণ ফিরে পাবে ঢাকা। কর্মজীবীদের ফেরার কোলাহলে ভাঙবে এই সুনসান নীরবতা। তবে ঈদের ছুটির এই যানজটহীন কয়েকটা দিন যান্ত্রিক নগরবাসীকে যে মানসিক প্রশান্তি আর নতুন উদ্যম দিয়েছে, তা আগামী দিনের ব্যস্ততায় টিকে থাকার দারুণ এক রসদ জোগাবে সন্দেহ নেই। অবসান ঘটছে ছুটির আমেজের, ঢাকা আবারও তৈরি হচ্ছে তার চেনা ছন্দে ফেরার জন্য।