।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনিতে যে দুর্নীতি হয়েছে তার দায় সরকার নেবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
রোববার (২৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের টার্মিনাল অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।
তিনি বলেন, কয়লা দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তাদের দুর্নীতির দায় কোনো রাজনীতিবিদ বা সরকার নেবে না। যে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দুর্নীতির সাথে জড়িত, তার দায়ভার সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাই নেবেন। বর্তমান সরকারের আমলে এ দুর্নীতি ধরা পড়ে ভালো হয়েছে। কারণ গত ১৩ বছর ধরে এ ধরনের দুর্নীতি হয়ে আসছিল। আমরা তদন্তে পাঠিয়েছিলাম। সেই কারণেই মূলত এই দুর্নীতি ধরা পড়েছে।
এ ঘটনায় সরকার চাপে পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, সরকার তো চাপে পড়ার কথা না। চাপে তো সেই দুর্নীতিবাজরা পড়েছে।
ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভরসা করছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলা হয়েছে। আরো বড় আকারে তদন্ত করার জন্য এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিটি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাই। এখানে কারা কারা জড়িত। আমরা চাই যারা দুর্নীতি করেছে তাদের কাছে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক। এই ধরনের দুর্নীতি করে কেউ যেন পার পেতে না পারে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (বিপণন) মো. সরওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিপিসির পরিচালক (অর্থ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান, সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াকুব বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে তেলের বিপণন ব্যবস্থা অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি জানি আপনারা অটোমেশন চান না। তারপরও আমি বলে যাব, দুর্নীতি কমাতে আধুনিকায়নের বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের দক্ষ লোক থাকার দরকার- সেই ধরনের লোক নেই। এর ফলে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। জাহাজ থেকে তেল নামানো এবং পরিবহনে এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তাই আমরা গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনার চিন্তা করছি।
দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইআরএলে ঢুকলে মনে হয় সুন্দরবনে ঢুকেছি। অনেকবার বলেছি, কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি। এসব কারণে দ্বিতীয় রিফাইনারি কারা চালাবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। পুরনোটার এই অবস্থা, নতুনটা কিভাবে চালাবে।
কর্মকর্তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বালুর বস্তা দিয়ে আগুন নেভাবেন সেই চিন্তা বাদ দিতে হবে। ৫০ বছরের পুরনো সেই চিন্তা থেকে সরে আসতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হবে। এজন্যই আমরা দক্ষ এবং প্রফেশনাল লোকদের নিয়ে আসতে চাই।
সারাবাংলা/আরডি/এটি
** দ্রুত খবর জানতে ও পেতে সারাবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Sarabangla/Facebook