ঢাকা: সিঙ্গাপুর থেকে চার ক্যাটাগরির জ্বালানি তেল ও মরক্কো থেকে সার আমদানি এবং ইউনসেফ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়সহ ১৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৯ হাজার ৭৬৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা খাতে অতিরিক্ত ওষুধ ক্রয়ের ৩টি ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে ৫০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি তেল আমদানি
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে চলতি পঞ্জিকা বছরের জুন-আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মু্ক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় চারটি প্যাকেজের (প্যাকেজ নং পিজি- ০১, ০২, ০৩ ও ০৪) আওতায় সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চার ক্যাটাগরির (ডিজেল, জেট এ-১ ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অকটেন) জ্বালানি তেল আমদানির চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ থেকে গ্যাস অয়েল (ডিজেল) ও জেট এ-১ ফুয়েল আমদানিতে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা; ‘ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড’ থেকে গ্যাস অয়েল (ডিজেল) ও জেট এ-১ ফুয়েল আমদানিতে ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা; ‘ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড’ থেকে ফার্নেস অয়েল আমদানিতে ১ হাজার ৯০০ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ‘ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড’ থেকে গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানিতে ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
মরক্কো থেকে টিএসপি সার আমদানি
বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুত্তির আওতায় বিএডিসি কর্তৃক মরক্কোর ‘ওসিপি নিউট্রিক্রপস’ থেকে দুটি লটের মাধ্যমে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি মেট্রিক টন ৬৭৭ ডলার দরে ১৯ তম (ঐচ্ছিক ৪র্থ) লট ক্রয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টন ৭২৬.৩৩ ডলার দরে ২০তম (ঐচ্ছিক ৫ম) লট ক্রয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
পাঁচ জেলায় ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচটি জেলায় মোট ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের পাঁচটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ই-জিপি দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
এর মধ্যে ১৭৭ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বগুড়া জেলায় ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে যৌথভাবে ‘ওয়াহিদ-আহাদ’; ১৯১ কোটি ৯১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ জেলায় ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে যৌথভাবে ‘ওয়াইসিএল-ডব্লিউইএল’; ১৭৯ কোটি ৯৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে পাবনা জেলায় ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে যৌথভাবে ‘এসসিএল-এমসিপিএল’; ১৮৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী জেলায় ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে ‘দ্য ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস লিমিটেড’ এবং ৩১৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর জেলায় ৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে ‘ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’।
ভোমরা ও বুড়িমারী স্থল বন্দর উন্নয়ন
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভোমরা ও বুড়িমারী স্থল বন্দর উন্নয়নে পার্কিং স্থান-শেড ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ওয়্যারহাউজ নির্মাণের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
এর মধ্যে ২৩৩ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ভোমরা স্থল বন্দর উন্নয়নের কাজটি পেয়েছে যৌথভাবে- ‘টিয়ানেন-ডিয়েনকো’ এবং ২৪১ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বুড়িমারী স্থল বন্দর উন্নয়নের কাজটিও যৌথভাবে করবে ‘টিয়ানেন-ডিয়েনকো’।
অন্যান্য ক্রয়
অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-তে ব্যবহারের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
পুলিশের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য ‘প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২১২টি ডাবল কেবিন পিক-আপ ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
এছাড়া স্থানীয় উৎস থেকে টিসিবি’র জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ডাল ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এটি সরবরাহ করবে ‘নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৫ লাখ টাকা।