চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে মাত্র ১০ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার একমাত্র আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
বুধবার (২৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন রাতে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বাড়িতে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও নিহতদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মা ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত শিশুর মাথায় গুরুতর আঘাতের তথ্যও চিকিৎসা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আসামি রিমন বড়ুয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩০৭/৩০২ ধারায় এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।