বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেশের জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বীমা দাবি নিষ্পত্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারসহ খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বীমা দাবি পরিশোধে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পুরো খাতের ওপর জনসাধারণের আস্থা কমে গেছে। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা কিছু কোম্পানির দাবি পরিশোধে অক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
এ সময় কোম্পানিগুলোর এমডি ও সিইওরা ব্যাংকিং খাতের মতো একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব দেন। এর জবাবে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একটি ‘ওয়ান-টাইম’ সহায়তা প্যাকেজের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য শিল্পখাতকে কার্যকর সংস্কার ও সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতে জনআস্থা পুনরুদ্ধারই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সময়মতো দাবি পরিশোধ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে।
সভায় বীমা খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। চেয়ারম্যান জানান, ভবিষ্যতে রিয়েল-টাইম তথ্যভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বীমা পলিসির ল্যাপস বা ঝরে পড়ার হার কমাতে কমিশন কাঠামোর সংস্কার, অ্যাকচুয়ারিয়াল সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং তাকাফুলসহ নতুন ও উদ্ভাবনী বীমা পণ্য চালুর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
সভায় চেয়ারম্যান জানান, আইডিআরএ প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর মতে, রিয়েল-টাইম তথ্য ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে তদারকি ব্যবস্থা পরিচালিত হলে খাতের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
সভা শেষে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পৃথকভাবে প্রতিটি জীবন বীমা কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান।
সভায় আইডিআরএ’র সদস্যদের পাশাপাশি দেশের জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।