ঢাকা: সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন (৫৮)-কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আরও ৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন— মো. আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. গোলাম রাব্বি (২২), বিল্লাল (৩৪) এবং দেলোয়ার হোসেন (৩৩)। এর মধ্যে প্রথম ছয়জনকে ৫ দিনের এবং বিল্লাল ও দেলোয়ার হোসেনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির আল আহসান আসামিদের আদালতে হাজির করে পৃথক দুই আবেদনে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চান।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে এবং পরে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোগ্যারেজের সামনে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে এসআই আলতাফ হোসেন হামলাকারীদের রোষানলে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এসআই আলতাফকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি করে এবং ক্যাশবক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআই আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) একই মামলার প্রধান আসামি জহুরুল-কে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন আদালত।