Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:২৪

ঢাকা: কর্মস্থলে অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার, এটিইউ’র সাবেক পুলিশ সুপার ও দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি জায়েদুল আলম

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ ও নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে তাকে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কার্যকরভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সাবেক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান

সাবেক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানও কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত হওয়ার পর ছুটি শেষে তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি।

একাধিকবার যোগাযোগ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর মণ্ডল

সাবেক সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলকে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়। তাকে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাবেক পুলিশ সুপার ছানোয়ার

একই অভিযোগে এটিইউয়ের সাবেক পুলিশ সুপার কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে

সিলেট ৭-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দেকেও একই ধরনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ওই তারিখ থেকে কার্যকরভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস

এছাড়া ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাসকে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান তিনি। কিন্তু ছুটি শেষে ২ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি আর যোগ দেননি। একাধিকবার নোটিশ ও যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব দেননি।

তদন্তে অভিযোগ দুটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২ নভেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকরভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলাগুলোতে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কমিশনও এই ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর পৃথক আদেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়।

সারাবাংলা/ইউজে/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো