Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আসামিদের প্রকৃত বয়স জানতে বায়োলজিক্যাল টেস্ট করার দাবি অপ্রতিমের মায়ের

কুবি করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩১

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।

কুবি: কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স যাচাইয়ে বায়োলজিক্যাল টেস্ট করার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে তার ভূমিকার কারণে কোন প্রতিশোধের অংশ হিসেবে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল কিনা, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কোটবাড়ির নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন অপ্রতিমের মা।

অভিযুক্তদের বয়স প্রসঙ্গে ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘মাইনর বলে ওদের যদি এখন সংশোধনাগারে রাখা হয়, ওরা আদতে মাইনর কিনা- এটা আমি জানতে চাই। আমাদের প্রচলিত আইনে যাদের শিশু বা মাইনর বলা হয়, সেই বয়সটা ভোটার আইডি বা জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে দেখা হবে, নাকি বায়োলজিক্যাল টেস্ট করা হবে? ওদের প্রকৃত বয়স কত, সেটা বের করা হোক।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে তো মারা গেছে। ওদের ফাঁসি হলেও আমি আমার ছেলেকে ফেরত পাব না। কিন্তু ওরা যখন পাঁচ বছর, দশ বছর পর সংশোধনাগার থেকে ফিরবে, তখন আমি ও আমার স্বামী নিরাপদ থাকব কি না? যে ছাত্র-ছাত্রীরা ওর জন্য আন্দোলন করছে, তারা কি নিরাপদ থাকবে? এভাবে আর কত মায়ের বুক খালি হবে?’

অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে টার্গেট করা হয়েছিল কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তার মা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে পরিকল্পনা করে মেশা হয়েছে কি না, একটা নির্দিষ্ট সময়ে ওদের সঙ্গে ওর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কি না, এসব বিষয় তদন্ত হওয়া দরকার। সঠিক তথ্যটা বের হয়ে আসুক।’

মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে ড. নাহিদা বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে থাকাকালে কয়েক দফা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। এসব অভিযানে বহিরাগতদের আটক, মাদকদ্রব্য ধ্বংস এবং পুলিশে সোপর্দসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, ‘প্রথম দিনের তদন্তে এই প্রসঙ্গটা ওঠার পর আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। আমি যখন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ছিলাম, তখন দফায় দফায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিলাম। সেখানে বহিরাগত ধরা হয়েছে, গাঁজা নষ্ট করা হয়েছে, কাউকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে, কারও মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। যারা এসব সরবরাহ করত, তাদের কারও মধ্যে আমার ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তে থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমার ওপর কোনো রাগ থেকে থাকে, তারা আমাকে টার্গেট করতে পারত। কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে মিশে, আমার ছেলের কোনো ক্ষতি করে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না আমি সেই সত্যটা জানতে চাই।’

অপ্রতিমের সঙ্গে কয়েকজন সিনিয়রের যোগাযোগ নিয়েও আগে থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে জানান। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই অপ্রতিমের সহজ সম্পর্ক ছিল এবং সে সবাইকে আপনজন মনে করত।

অপ্রতিমের বাইক ও আইফোনের প্রতি আগ্রহ নিয়েও কথা বলেন তার মা। তিনি বলেন, ‘বাইকের প্রতি ওর এই আগ্রহটা একটা নির্দিষ্ট সময়ে তৈরি হয়েছিল। কেউ হয়তো ওকে বাইকে চড়িয়েছে, উৎসাহ দিয়েছে। আমরা যে ভিডিওটা দেখেছি, সেখানে আমার কাছে মনে হয়েছে ওকে সামনে বসানো হয়েছে এবং পেছন থেকে ধরে ভিডিও করা হয়েছে।’

আইফোন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইফোনের প্রতি ওর খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। ছোট ছোট ছবি তোলার জন্যই আইফোনটি কেনা হয়েছিল। এর বাইরে আইফোন নিয়ে ওর বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না।’

অপ্রতিমকে কীভাবে বড় করেছেন, সে প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত হয়ে ড. নাহিদা বলেন, তিনি ছেলেকে শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানোর লক্ষ্য নিয়ে বড় করেননি। বরং তাকে স্বনির্ভর, মানবিক ও পৃথিবীকে নিজের মতো করে চিনতে শেখাতে চেয়েছিলেন। আমি কখনো চাইনি আমার বাচ্চা ফার্মের মুরগির মতো বড় হোক। আমি চেয়েছি আমার ছেলে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াবে, প্রত্যেকটা কাজে সেলফ ডিপেন্ডেন্ট হবে। ও ফটোগ্রাফি শিখুক, সাইক্লিং শিখুক, সাঁতার শিখিয়েছি, কারাতে শিখিয়েছি, এক বছর নাচও শিখেছে।

নিজের অভিভাবকত্বের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে শেখাইনি যে অমুক খারাপ মানুষ, অমুক ভুল মানুষ। আমি চেয়েছি ও আস্তে আস্তে বড় হোক, পৃথিবীকে চিনুক। এটা যদি আমার ভুল হয়, আমি মাফ চাই।’

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় কোনো সম্ভাবনাকেই তদন্তের বাইরে না রাখার আহ্বান জানিয়ে তার মা বলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেছে। এরপর ওরা বের হয়ে এসে আরেকটা অপরাধ করুক- আমি সেটা চাই না। এই রাস্তাগুলো যেন বন্ধ হয়ে যায়।’

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বাতাস আজ 'সহনীয়'
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৯

আরো

সম্পর্কিত খবর