রংপুর: রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত তিনজন রোগীর শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরের পরীক্ষায় ১১ জনের নমুনার মধ্যে তিনজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান। বর্তমানে আক্রান্ত তিনজনই সুস্থ আছেন।
শনাক্ত হওয়া রোগীরা হলেন পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আদমপাড়া গ্রামের সজিব মিয়া কয়েক মাস আগে একটি গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট গরুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে না জানিয়ে তিনি এটি জবাই করেন এবং এলাকার মানুষের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি ও বিক্রি করেন। ওই গরুর মাংস কাটা ও খাওয়ার কারণে এলাকার ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদ জানান, অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কয়েকজনের হাতে ফোসকা দেখা যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। সেখানে আর কোনো গরুকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
ডা. শাকিল আহমেদ আরও জানান, সংক্রমণ ঠেকাতে ওই এলাকার সব গরুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে অ্যানথ্রাক্সের কোনো ঝুঁকি নেই এবং অধিকাংশ রোগীর ঘা শুকিয়ে গেছে। অসুস্থ গরুর মাংস যাতে কেউ বিক্রি করতে না পারে সেজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান জানান, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের খবর পেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি দল উপসর্গযুক্ত ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগ। বাংলাদেশে এই রোগ স্থানীয়ভাবে ‘তড়কা’ নামে পরিচিত। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।
মানবদেহে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের প্রধান রূপটি হলো ত্বকের অ্যানথ্রাক্স, যা সংক্রমিত পশুর মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ত্বকে ব্যথাহীন লালচে দাগ দেখা দেয়, যা পরে ফোসকায় পরিণত হয় এবং শেষে কালো খোসপাঁচড়া তৈরি করে।