ঢাকা: দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সংকট মূলত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপির সংস্কার বিরোধী অবস্থানেরই প্রত্যক্ষ ফলাফল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সংস্কারকে গুরুত্ব না দিয়ে পুরোনো জরাজীর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের মূল চেতনাকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার ব্যাকুলতা দেশের তরুণ প্রজন্মকে চরম হতাশ করেছে বলে তিনি মনে করেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভেঙে পড়া শাসনব্যবস্থাকে সংস্কার না করে কেবল ক্ষমতার ড্রাইভিং সিটে বসার ব্যাকুলতা দেখিয়েছে বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সালাউদ্দিন আহমেদের মতো প্রভাবশালী নেতারা তরুণদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সংস্কারের পথে বাঁধার প্রাচীর তৈরি করেছেন ।
জুলাই আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, সালমান মুক্তাদিরের মতো তরুণ ও সচেতন নাগরিকেরা রাজপথে নেমেছিল কেবল ক্ষমতার হাতবদল দেখতে নয়, বরং একটি নিরাপদ, আধুনিক ও পুনর্গঠিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। স্বাধীন পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কারে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরাগ্রস্ত ও ব্যর্থ রাষ্ট্রকাঠামোকে টিকিয়ে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং অনিয়ম-চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়ার এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তারেক রহমান ও তাঁর দলের জন্য ভবিষ্যতে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।