চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকায় একটি বাড়িতে জাল ভারতীয় রুপি তৈরির ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে ওই বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামকে জাল নোট তৈরির কক্ষে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ফুটেজে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া ও বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে গত ৮ আগস্ট র্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় রুপি ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের নাম নেই। মামলায় বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. খান সাহেবসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান মহল্লায় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ রুপির ২৩টি বান্ডিল ও ২০০ রুপির দুটি বান্ডিল ছিল। এ ছাড়া জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিশেষ বিদেশি জাল সুতা, ড্রাফটিং কাগজ, ধাতব ডাইস, রাবার, রঙের কেমিকেল, ল্যাপটপ, সিপিইউ, দুটি কালার প্রিন্টার ও হিটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
অভিযানে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীপাড়া গ্রামের তৌসিকুল ইসলাম তোসিফ (৩০) ও নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মন্দিখোর গ্রামের শামীম আলী (৩২) আটক হন। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়া ও পলাতক মো. খান সাহেবসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে র্যাব।
সম্প্রতি পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির বলে জানা গেছে। এতে জাল নোট তৈরির কক্ষে শ্রমিকদের কাজ করতে এবং বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামকে সেখানে বসে থাকতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে। ফুটেজ সম্পর্কে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে জাল নোট তৈরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
শহিদুল ইসলামের দাবি, র্যাবের অভিযানের প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে তিনি বাড়িতে জাল নোট তৈরির বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ভাড়াটিয়া খান সাহেবকে বাড়ি ছাড়তে বলেন এবং বাড়িতে ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেন। ঘটনার সময় তিনি শিবগঞ্জের খাসেরহাটে ছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে তার অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার প্রধান ও পলাতক আসামি মো. খান সাহেবও জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ওই বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং অন্য কক্ষে কী কর্মকাণ্ড চলত তা জানতেন না। বাড়ির মালিকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খান সাহেব বলেন, ঘটনার দিন ওষুধ আনতে বাইরে গেলে বাড়িতে র্যাবের অভিযান চলছে বলে তাকে ফোনে জানানো হয়। পরে বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় রুপি উদ্ধারের খবর পান। তার ভাড়া নেওয়া কক্ষে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাকিল হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজটি আমিও দেখেছি। তবে এটি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলায় তিনজন আসামি থাকলেও তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।’
র্যাব-৫-এর সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’
জাল নোট তৈরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ির মালিকের উপস্থিতি এবং মামলায় তার নাম না থাকা- এই দুই বিষয়কে ঘিরে তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা। মামলার তদন্তে ফুটেজটির সত্যতা ও এতে থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রম যাচাই করে প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণের বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।