ফরিদপুর: ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পাশে পুরাতন কালীবাড়ী মন্দিরের চুরি যাওয়া ২০ কেজি ওজনের কোটি টাকা মুল্যের কষ্টি পাথরের মুর্তি ও স্বর্র্ন-রূপা এবং পিতলের বিভিন্ন মুর্তিসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার শাহারিয়ার মোহম্মদ মিয়াজী।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আকবর শেখের ছেলে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮) ও সাদ্দামের মা সাজেদা বেগম (৬৫), এবং বোয়ালমারী উপজেলার কান্দাকুল গ্রামের অপর আসামী আল আমিন মোল্যা (২৪), আতিয়ার রহমান (৩৫)।
পুলিশ সুপার শাহারিয়ার মোহম্মদ মিয়াজী জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরের তালা কেটে ২০ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের কালি মাতা বিগ্রহ যার বাজার বাজার মূল্য ১ কোটি টাকা। এছাড়াও মুর্তির সাথে থাকা ৫ ভরি স্বর্র্ন ও ১১ লাখ টাকা মূ্ল্যের পিতলের রাধাকৃষ্ণ, বিষ্ণু, মনসা মুর্তিসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তাসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে শহরের শিবরামপুর থেকে চোর চক্রের সদস্য আসাদুজ্জামান সাদ্দামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্য মতে মন্দিরে চুরির সঙ্গে জড়িত তার মাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে সাদ্দামের মা সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্য মতে তাদের রান্না ঘরের মেঝের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্র্ণ ও রৌপ্য অলংকার এবং ৬টি পিতলের মুর্তি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও আসামি সাদ্দাম ও আল আমিনের তথ্য মতে পাশের গ্রাম রূপাপাতে মাসুদ মোল্যার বাড়ির পেছনে মাটিতে পুতে রাখা কষ্টি পাথরের কালী মুর্তি উদ্ধার করে পুলিশ। আর বোয়ালমারী বাজারের স্বর্র্ণপট্টির জুয়েলার্সের মালিক আতিয়ারের কাছ থেকে চুরি হওয়া প্রতিমার কানের দুল, টিকলিসহ অন্যান্য অলংকারের গলানো ৮ আনা সোনা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামি সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও মুর্তি চুরিসহ ১০টি এবং আসামি আল আমিনের বিরুদ্ধে একই ধরণের ৮টির বেশি মামলা আছে।
চাঞ্চল্যকর মন্দির চুরির এই ঘটনার সংবাদ সম্মেলনে এসময় স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্র্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিল।