টাঙ্গাইল: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা লংমার্চ করে বলছেন এই মুহূর্তে সরকারের পতন ঘটাব। আমরা খুব তাড়াতাড়ি এক দফার ঘোষণা দেব। কিসের এক দফা, কিসের সরকারের পতন? বিরোধী দল এখন আওয়ামীলীগের সুরে কথা বলছেন। তাই সংসদের বাইরে অযথা আওয়ামী লীগের মতো উৎশৃঙ্খল আন্দোলন করে মানুষের গলার কাঁটা হবেন না, এ আন্দোলন মানুষ পছন্দ করছে না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন পতিত ফ্যাসিস্টদের সাথে এবং আওয়ামী লীগের সাথে রাতের আঁধারে আপস-রফা করে আপনারা এই আন্দোলন করছেন। সেই ইতিহাস তো আপনাদের আছে- আপনারা তো ১৯৯৬ সালে তাদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন, আপনারা তো ১৯৮৬ সালে তাদের সাথে নির্বাচন করে ছিলেন! কাজেই মানুষ কিন্তু আপনাদের আগের মতো আর বিশ্বাস করে না। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে আপনাদের সৎকর্ম করতে হবে। একটা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে মাত্র সাত মাসে আপনারা উঠিয়ে দিতে চান? তারা তো কোনো খারাপ কাজ করছে না!
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বিএনপির একটা এমপি একটা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তো এই সাত মাসে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি। আগামী দিনেও পারবে না। তাহলে কেন এই উৎশৃঙ্খল আন্দোলন? আজকে বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে- গত সাত মাসে একটা গুম হয়নি, একটা রাজনৈতিক কর্মী গ্রেফতার হয়নি। একটা অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বিরোধী দল আপনারা গঠনমূলক রাজনীতি করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। জনগণ যে জাতীয় সংসদ তৈরি করে দিয়েছে, আপনাদের যত কথা, আপনারা জাতীয় সংসদে বলুন। সকল আন্দোলন, সকল আলোচনা, সকল সমস্যা, সকল ভুলত্রুটির কেন্দ্রবিন্দু হোক জাতীয় সংসদ। তবেই তো সংসদীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
আহমেদ আযম খান বলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন- আমি বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। দিনরাত কাজ করেছেন, আর তার সহকর্মী হিসেবে আমরাও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সংসদে বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানিয়েছি। আসুন বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, আর জ্বালাও-পোড়াও নয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়েছে, এবার আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে চাই। আমরা অর্থনীতিকে পুনর্নির্মাণ করতে চাই। আমরা বিশ্বদরবারে জাতিকে একটি সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড় করাতে চাই।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দেখেছি,বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী যখন সরকার গঠন করলে আওয়ামীলীগ নেত্রী বলেছিল- এক মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেব না। আর এই সুর এখনকার বিরোধী দল শুধু এতটুকুই বলছে না- এক মিনিটের জন্য শান্তিতে থাকতে দেবো না। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড ওইরকম, অর্থাৎ ওই সুর, ওই অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা। যে আসনগুলো পেয়েছেন, ধরে রাখার চেষ্টা করেন। আপনারা গঠনমূলক রাজনীতি করুন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর ‘মানি না, মানব না’ ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি বাদ দিন। নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি করুন।
বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্যরা।