ঢাকা: রাজধানী ঢাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে সমন্বিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। মাসব্যাপী এই অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং সাইবার জালিয়াতিতে জড়িত চক্রের ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে পুলিশ গ্রেফতারদের থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, বোতলজাত মদ, দেশীয় অস্ত্র (সুইচ গিয়ার চাকু, কাঁচি, করাতের ধারালো ব্লেড), ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন এবং সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও আলামত উদ্ধার করেছে।
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ী, রমনা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বনানী ও দক্ষিণখানসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই কাওরান বাজার ও বনানী কাকলি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজা এলাকায় ছিনতাইকালে সুইচ গিয়ার চাকু ও গাঁজাসহ রিয়াদ, সাইফুল, হৃদয় ও কালাচান মিয়াকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকেই একাধিক ডাকাতি ও দস্যুতা মামলার আসামি চিহ্নিত ছিনতাইকারী মোঃ রনি এবং মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে বিদেশি মদসহ দুই মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়।
সেপ্টেম্বরজুড়ে যাত্রাবাড়ী গোলচত্বর, দয়াগঞ্জ ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়। এসব অভিযানে ইয়াবা, হেরোইন, বিপুল পরিমাণ পুরিয়া গাঁজা, সুইচ গিয়ার চাকু ও ছিনতাইকৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন থানার একাধিক পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ অন্তর আহম্মেদ, মোঃ সুজাল হোসাইন রিমন ও ইমাম হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর রমনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ৭ কেজি গাঁজাসহ (আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) মোঃ মিন্টু নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-০২ এলাকা থেকে ৫১ গ্রাম হেরোইন (মূল্য ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা) ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ শিল্পী রাণী শীল নামের এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গোলচত্বর ও বাবুস সালাম মসজিদ এলাকা থেকে ছিনতাইকারী ও গাঁজাসহ একাধিক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে সাতরাস্তার আকিজ পাম্পের পাশ থেকে ৮ কেজি গাঁজাসহ আরও এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিটিটিসির রেকর্ড অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম ফেসবুকে সিডিআর, এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও এসএমএস কনটেন্ট বিক্রির বিজ্ঞাপন চক্রের সন্ধান পেয়ে মগবাজার-কাকরাইল এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে আলামতসহ অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরের অভিযানে এই মামলার সাথে জড়িত আরও একজনকে দুটি স্মার্টফোনসহ গ্রেফতার করা হয়।
সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে দণ্ডবিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিটিটিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিটিটিসির এই ধরনের বিশেষ প্রতিরোধমূলক ও গোয়েন্দা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।