Saturday 17 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মহাসপ্তমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেশজুড়ে শান্তির প্রার্থনা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৩

ঢাকা: ঢাকঢোলের বাদ্য, কাঁসরের ঘণ্টা আর ধূপের সুবাসে মুখরিত সারাদেশের পূজা মণ্ডপগুলো। শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছিল, তা আজ মহাসপ্তমীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন এবং সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে পূর্ণ আনন্দ ও ভাবগাম্ভীর্যে পৌঁছেছে।  এই বিশেষ দিনে ভক্তদের আকুল প্রার্থনা-শান্তি, সংহতি, শক্তি ও বিশ্ব কল্যাণের।

শারদীয় এই উৎসবের গভীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচারের সীমানায় আবদ্ধ নয়; এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভের বিরুদ্ধে মানবীয় শুভবোধের জাগরণ, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ গঠন।

 

উৎসবের এই ক্ষণে রঙিন পোশাক আর উচ্ছ্বাসে উচ্ছসিত তরুণ-তরুণীরা। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে বেড়ানোর আনন্দের কথা জানাতে গিয়ে তরুণী অরুণা রায় বলেন, সপ্তমীর এই দিনটার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি। বন্ধুদের সাথে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলার মজাই আলাদা। তবে আনন্দের পাশাপাশি দেবী দুর্গার কাছে এটাই চাওয়া, আমাদের সমাজে যেন শান্তি ও সংহতি চিরকাল বজায় থাকে। অস্থিরতা দূর হয়ে সমাজে নির্বিঘ্নে যেন আমরা চলাফেরা করতে পারি সে প্রার্থনাও ছিল অরুণা রায়ের কণ্ঠে।

বিজ্ঞাপন

 

পূজার অধ্যাত্মিক ভাবধারা ও তাৎপর্য নিয়ে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ, খামার বাড়ি পূজামণ্ডপের প্রধান পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেবী দুর্গা হলেন অশুভ বিনাশী শক্তি ও কল্যাণের প্রতীক। নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতির নব শক্তির পূজা করি। মানুষের ভেতরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে শাশ্বত শুভবোধকে জাগিয়ে তোলাই মহাসপ্তমীর মূল বার্তা। আমরা মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, দেশ ও জাতির ওপর যেন দেবী কৃপা বর্ষিত হয় এবং সবাই যেন সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।’

 

এদিকে, উৎসবের আবহ আবহমান হলেও মণ্ডপে তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধের চিত্রটি ছিল চোখে পড়ার মতো। দশম শ্রেণীর অপূর্ণা সাহা এবার তার বন্ধুদের সাথে পূজা মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) হিসেবে দিনভর দায়িত্ব পালন করছে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো ও বয়স্কদের সহায়তায় ব্যস্ত অপূর্ণা জানান, বন্ধুদের সাথে শুধু ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে পূজা মণ্ডপে কাজ করাটার আনন্দ অনেক বেশি। সবাই যাতে সুশৃঙ্খলভাবে দেবী দর্শন করতে পারেন, সেই চেষ্টা করছি। পূজার শিক্ষা অনুযায়ী সাম্য ও ভেদাভেদহীন সমাজ গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই আমাদের এভাবে এগিয়ে আসা উচিত।

উৎসবের দ্যুতিতে ভাসছে দেশ, আর প্রতিটি মণ্ডপ থেকে ধ্বনিত হচ্ছে একতা ও শান্তির মন্ত্র। দেবী দুর্গার আগমনে মুছে যাক সব আঁধার, জাগ্রত হোক মানবতা-মহাসপ্তমীতে দেশের প্রতিটি কোণ থেকে এই শুভকামনা ও মঙ্গল প্রার্থনাই এখন সবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মুখে মুখে।

সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর