Thursday 22 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৩৫ বছরেই শেষ উকিল হওয়ার স্বপ্ন, প্রশ্নের মুখে বার কাউন্সিল

তাহমিনা ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৪৬

কোলাজ প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: আইন পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশের আদালতপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বার কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নির্ধারিত বয়সের পর নতুন করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। এতে একদিকে পেশার মান, শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বয়সের সীমা নির্ধারণ করেই কি আইন পেশার অনিয়ম ও পেশাগত দুর্বলতা দূর করা সম্ভব- এমন প্রশ্ন ওঠছে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল-এর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান আইন শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ সময় নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ল’ কলেজগুলোতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, পেশা পরিবর্তন করে আইন পড়তে আসা ব্যক্তি এবং তুলনামূলক বেশি বয়সে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কী কারণে বয়সসীমা 

বার কাউন্সিলের বর্তমান এডহক কমিটির গত ১৯ আগস্টের এক বৈঠকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে বয়সসীমা ৩০, ৪০ ও ৪৫ বছর করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছিল। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বছর নির্ধারণে ঐকমত্য হয় বলে জানানো হয়েছে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কাজলের ভাষ্য, সাম্প্রতিক কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আদালত অঙ্গনে বিভিন্ন অনিয়ম, ভুয়া সনদ, পেশাগত অসদাচরণ এবং আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

তার মতে, আইন পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের এ পেশায় আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বার কাউন্সিলের যুক্তি অনুযায়ী, বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য শুধু নতুন আইনজীবীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং পেশাটির পেশাদারত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা।

বয়সসীমা নিয়ে মতভেদ

সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শারমিন শিউলি। তার মতে, আইন পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য পেশায় প্রত্যাশিত সুযোগ না পেয়ে শুধু বিকল্প হিসেবে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে পেশায় প্রবেশের প্রবণতা থাকলে তা পেশাগত মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে ভিন্নমতও রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, আইনজীবীদের মর্যাদা ও পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে শুধু বয়সসীমা নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। বার কাউন্সিলের বিধিতে পেশাগত অসদাচরণের জন্য যেসব শাস্তির বিধান রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, বার কাউন্সিলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বয়সসীমা কমিয়ে বা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অমিত দাশগুপ্তের মতে, বয়সসীমা ৩৫ বছরের পরিবর্তে ৪০ বা ৪৫ বছর নির্ধারণ করা অধিক যুক্তিসংগত হতে পারত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ল’ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি ও আইন শিক্ষার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে আইনজীবী কুমার দেবুল দের মতে, পেশাগত অনিয়মের মূল কারণ বয়স নয়; বরং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পরীক্ষার মান, নৈতিকতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি। তাঁর মতে, বার কাউন্সিলের পরীক্ষার মান উন্নয়ন, নিয়োগ ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সংস্কার এবং আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অন্য দেশে আইনজীবী হওয়ার সর্বোচ্চ বয়স 

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও বয়সসীমার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে সলিসিটর বা ব্যারিস্টার হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য সাধারণভাবে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারিত নেই। যুক্তরাষ্ট্রেও আইন পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে দেশব্যাপী একক সর্বোচ্চ বয়সসীমা প্রচলিত নয়; তবে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্সিং ও যোগ্যতার নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

ভারতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ নিয়ে আগে বিতর্ক হয়েছে। এ ধরনের বিধিনিষেধ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মামলার রায় ও পরবর্তী বিধানের অবস্থা যাচাই করে তুলনা করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ, আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণের প্রশ্নটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এর সঙ্গে পেশা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা, সমান সুযোগ এবং আইন শিক্ষার কাঠামোর সম্পর্কও রয়েছে।

যেভাবে কার্যকর হবে নতুন বয়সসীমা

বার কাউন্সিল দেশের আইনজীবীদের তালিকাভুক্তি, পেশাগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন পেশায় অনুশীলনের অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বয়সসীমার সিদ্ধান্তটি বার কাউন্সিলের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং এটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জানানো হবে।

তবে সিদ্ধান্তটির সুনির্দিষ্ট বিধান, কার্যকর হওয়ার শর্ত, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম স্পষ্টভাবে জানা জরুরি।

এ ছাড়া সিদ্ধান্তটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে এর আইনগত বৈধতা ও চূড়ান্ত প্রয়োগ আদালতের পর্যালোচনার বিষয় হতে পারে।

উল্লেখ্য, আলোচ্য বয়সসীমা মূলত নিম্ন আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্রথমবার তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী পর্যায়ে তালিকাভুক্তির নিয়মের সঙ্গে বিষয়টি এক করে দেখার সুযোগ নেই।

সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন যারা

বাংলাদেশে আইন বিষয়ে পড়াশোনার একাধিক পথ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রির পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে এলএলবি পাসকোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থী প্রথমে অন্য বিষয়ে স্নাতক শেষ করে পরে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কেউ চাকরি বা ব্যবসার পাশাপাশি আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন, আবার কেউ জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে এসে আইন পেশাকে নতুন কর্মজীবন হিসেবে বেছে নেন।

এদের মধ্যে অনেকের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করতে পারে। ফলে বয়সসীমা কার্যকর হলে তাদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যারা বর্তমানে এলএলবি পাসকোর্সে পড়ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি সম্পন্ন করা, বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে কি না- তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইন শিক্ষায় সেশনজট, পরীক্ষা আয়োজনের বিলম্ব কিংবা ফল প্রকাশে দেরি হলে শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় শর্ত ও ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিদ্যমান শিক্ষার্থী ও আগে থেকে নিবন্ধিতদের জন্য কী ধরনের সুযোগ রাখা হবে, তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংকটের আশঙ্কায় ল’ কলেজগুলো

বয়সসীমা কার্যকর হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ল’ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক বেশি বয়সে আইন পড়তে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

তবে বয়সসীমার সিদ্ধান্তের কারণে ল’ কলেজগুলো বন্ধ হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা নাকচ করেছেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় প্রয়োজনীয় শর্ত যুক্ত করে সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধান, বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাব্য ছাড় এবং আইন শিক্ষায় ভর্তির ওপর এর বাস্তব প্রভাবের ওপর।

ভুয়া আইনজীবী ও প্রতারণা প্রতিরোধ: কতটা কার্যকর হবে

আদালত অঙ্গনে আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা, দালালচক্রের তৎপরতা এবং ভুয়া সনদসংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন পেশা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের মতে, বয়সে পরিণত কাউকে অনেক সময় সাধারণ মানুষ অভিজ্ঞ বা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলে ভুল করতে পারেন। নির্ধারিত বয়সের মধ্যে পেশায় প্রবেশের নিয়ম থাকলে এ ধরনের ভুল ধারণা কমতে পারে বলে তার প্রত্যাশা।

তবে আইনাঙ্গনের একাংশের প্রশ্ন, প্রতারণা বা অসদাচরণের সঙ্গে বয়সের সরাসরি সম্পর্ক কতটা? একজন তরুণ আইনজীবীও অনিয়মে জড়াতে পারেন আবার বেশি বয়সে পেশায় প্রবেশ করা কেউ দক্ষ ও সৎ আইনজীবীও হতে পারেন।

তাই শুধু বয়সের ভিত্তিতে পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বয়সসীমা নাকি সংস্কার: সমাধান কোন্ পথে

আইন পেশার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে বয়সসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বার কাউন্সিল পরীক্ষার মান উন্নয়ন, সনদ যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা, পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং আইনজীবীদের আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ।

একই সঙ্গে আইন শিক্ষার মান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পাঠ্যক্রম, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং পেশায় প্রবেশের স্বচ্ছ প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

বয়সসীমার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি হলো, এতে পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে এবং তরুণদের জন্য সুযোগ বাড়তে পারে। বিপরীতে, সমালোচকদের মতে, বয়স দিয়ে দক্ষতা বা সততা নির্ধারণ করা যায় না; বরং যোগ্যতা ও পেশাগত আচরণের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, ৩৫ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ আইন পেশার মানোন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও এর বাস্তব ফল নির্ভর করবে সিদ্ধান্তটির আইনগত ভিত্তি, বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সুরক্ষা রাখা হচ্ছে তার ওপর।

আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা নয়, বরং যোগ্য, দক্ষ ও নৈতিক আইনজীবী তৈরি করাই হওয়া উচিত যেকোনো সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য। তাই প্রশ্নটি শুধু ৩৫ বছরের পর ওকালতি করা যাবে কি না, তা নয় বরং কীভাবে আইন পেশাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে তোলা যায়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।