Sunday 01 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নারায়ণগঞ্জে নিশা হত্যা: মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আসামির যাবজ্জীবন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৫২ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬ ২১:০২

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রী নিশা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আব্দুর রহমানের সাজা কমিয়েছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে। এ কারণে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আব্দুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি। উভয় আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় নিশাকে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত নিশা বেগম নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং কাতারপ্রবাসী তাজুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। মামলার দণ্ডিত আসামি আব্দুর রহমান সম্পর্কে তাজুল ইসলামের ভগ্নিপতি, অর্থাৎ নিশার ননদের স্বামী। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নিশাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নবীগঞ্জ এলাকায় নিশাকে একা পেয়ে কুপ্রস্তাব দেন আব্দুর রহমান। একপর্যায়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। এ সময় নিশা চিৎকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন আব্দুর রহমান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ১০ ডিসেম্বর নিশার ছোট ভাই মো. রাব্বি মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় আব্দুর রহমানকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এবার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর