ঢাকা: ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে রাজ্যের ওঙ্গোলের কাছে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। উপকূল স্পর্শ করার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।
ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) জানায়, ৬ ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত স্থলভাগ অতিক্রমের কাজ চলছিল, যা পুরোপুরি শেষ হতে কয়েক ঘণ্টা সময় নেয়। ঝড়ের প্রভাবে প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের সামাথা নগরে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং অনেক বাসিন্দা আটকে পড়েন, যাদের উদ্ধারে জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়া নেল্লোর, বাপটলা, কৃষ্ণা, এলুরুসহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি নিচু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়লেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর কারণে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঝড়টির প্রভাবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।