Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে


৮ আগস্ট ২০১৮ ২২:৩৮ | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০১৮ ২২:৪৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

। আব্দুল জাব্বার খান,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।

ঢাকা: সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে তাৎক্ষণিক (গোল্ডেন আওয়ার এর মধ্যে) তাকে নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে তাকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে হবে । ‘দেশের সব সড়ক মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।

বুধবার (৮ আগস্ট) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও সহায়তাকারীকে সুরক্ষা প্রদান নীতিমালা ২০১৮ এর দু’টি অংশে আদালতের পর্যবেক্ষণে যোগ করে গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আদালতের নির্দেশে নীতিমালা করে দাখিল করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ওই নীতিমালার ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি সেবা প্রদান’ অংশে বলা হয়েছে, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষর্থে তাৎক্ষণিকভাবে (গোল্ডেন আওয়ার এর মধ্যে) তাকে নিকটতম হাসপাতালে প্রেরণ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে।

আইনি জটিলতার সম্ভাবনা বিবেচনায় চিকিৎসা সেবা দিতে দেরি করা যাবে না। এছাড়া আহত ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা বিষয় বিবেচনা না করে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে (কর্পোরেট স্যোশাল রেসপন্সসেবিলিটি-সিএসআর) এর আওতায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।’

নীতিমালার ‘চিকিৎসা সেবা প্রদানে স্থানান্তর’ অংশে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ (ইনটিগ্রেটেড) চিকিৎসা সেবা সুবিধা বা সক্ষমতা না থাকলে রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যাবলী লিপিবদ্ধ করে (গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে নিজ দায়িত্বে স্থানান্তর করবে।’

‘উপযুক্ত সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল কর্তৃক চিকিৎসা প্রদানের বাধ্যবাধকতা’ অংশে বলা হয়েছে, ‘আহত ব্যক্তির চিকিৎসা প্রদানে সক্ষমতা সম্পন্ন হাসপাতাল কোনো অবস্থাতেই রোগীর চিকিৎসা ব্যতিরেখে ফেরৎ বা স্থানান্তর করতে পারবে না।’

‘চিকিৎসাধীন ব্যক্তির সম্মতিগ্রহণ’ অংশে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘আহত ব্যক্তি চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক ও সম্মতি দিতে সক্ষম হলে তার জীবন রক্ষার্থে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তার সম্মতি নিতে হবে। আহত ব্যক্তি চিকিৎসার ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হবে। অভিভাবক না থাকলে বা না পাওয়া গেলে শল্য চিকিৎসা জরুরি হলে তার সম্মতি আছে বলে ধরে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।’

জরুরি শল্য চিকিৎসার কারণে আহত ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা থাকলে বা জীবনহানি ঘটলে উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।’

নীতিমালার ‘অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন’ অংশে বলা হয়েছে, ‘জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তির অবহেলা বা শৈথিল্য অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে;

জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানে অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে নিবন্ধন বা লাইসেন্স বা অনুমতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিধিমত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘জরুরি স্বাস্থ্য সেবা সেল গঠন’ অংশে বলা হয়েছে, ‘সরকার এ নীমিালা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি জরুরি স্বাস্থ্য সেবা সেল গঠন করবে;

এই সেল নীতিমালার কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উপযুক্ত সুপারিশ প্রণয়ন ও মনিটরিং করবে । এই মনিটরিংয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা শৈথিল্য চিহ্নিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার‌ হবে।

‘আহত ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকরণ’ অংশে বলা হয়েছে, ‘সকল হাসপাতাল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান সংক্রান্ত তথ্য নির্ধারক ছক অনুযায়ী ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে।’

সারাবাংলা/এজেড/জেডএফ