।। জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।
ঢাকা: আর মাত্র ৫দিন হজ ফ্লাইট থাকলেও এখনও সব ফ্লাইট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এরইমধ্যে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়াতে ১৫টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। আর এখনও কয়েকটি ফ্লাইটের টিকেট অবিক্রিত রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ফ্লাইটের সব টিকেট যদি সময়মতো বিক্রি না হয় তাহলে প্রায় ১ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে জানা যায়, আগামী ১৫ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শেষ ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে যাত্রীদের নিয়ে। অথচ ১৪ এবং ১৫ আগস্টের টিকেট এখনও অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। আর টিকেট কেনার সবশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী কাল (১১ আগস্ট) বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত, এই সময়ের পরে আর টিকেট কেনা যাবে না।
সূত্র জানায়, এখনও পর্যাপ্ত টিকেট বিমানের কাছে রয়ে গেছে, অনেকেই টিকেট করেননি। বিমানের পক্ষ থেকে এজেন্সিগুলোকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে টিকেট কেনার জন্য। নির্দেশনা মোতাবেক টিকেট কিনতে যদি ব্যর্থ হলে সেই হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং তার জন্য কোনও দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ নেবে না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা যায়, আজ (১০ আগস্ট) সিলেট থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট উদ্বোধন হবে। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ৪১৪ জন যাত্রী নিয়ে (বিজি ১০৮৩) ফ্লাইটটি সিলেট ছেড়ে যাবে। মোট দুইটি ফ্লাইটের মধ্যে আরেকটি ফ্লাইট যাবে আগামী ১৩ আগস্ট।
শুক্রবার (১০ আগস্ট) সিলেট থেকে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী কে এম শাহজাহান কামাল। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন) মমিনুল ইসলাম, পরিচালক (গ্রাহক সেবা) আলী আহসান এবং মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজসহ অন্যরা।
এর আগে, চট্রগ্রাম থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইটে গিয়েছেন যাত্রীরা।
শাকিল মেরাজ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিটি হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দিতে পারবে। কিন্তু আমরা প্রস্তুত থাকা পরও যাত্রীরা এখনও আসছেন না।’ যারা যারা ভিসা পেয়েছেন এবং টিকেট কিনেছেন তাদের নির্বিঘ্নে সৌদি আরব পৌঁছে দেওয়া হবে।
‘আগামীকাল ১১ আগস্ট বিকাল পাঁচটার মধ্যে টিকেট কিনতে অনুরোধ করা হয়েছে এজেন্সিগুলোকে। এর মধ্যে যারা টিকেট কাটবেন তাদের আমরা নিয়ে যাবো, কিন্তু যারা টিকেট কাটবেন না তাদের দায়দায়িত্ব আমরা নিতে পারবো না’, বলেন শাকিল মেরাজ।
এখন টিকেট পর্যাপ্ত রয়েছে জানিয়ে শাকিল মেরাজ বলেন, ‘যারা টিকেট কিনতে চান তারা টিকেট পাবেন। আমাদের যেটুকু ক্যাপাসিটি রয়েছে সে মোতাবেক টিকেট দেওয়া হবে এবং আমাদের কোনও বাড়তি স্লটের প্রয়োজন নেই।’
হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) এর মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এয়ারলাইন্স বেশি ফ্লাইট রেখেছিল হজযাত্রীদের জন্য। সবার জন্য যতো টিকেট প্রয়োজন ছিল-তা এজেন্সিগুলো ইতোমধ্যেই সংগ্রহ করেছে। এখন যদি বিমানের সিট খালি থাকে সেটি বিমানের সমস্যা।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে প্রথমে মানুষ গিয়েছিল টিকেটের জন্য, কিন্তু সেসময় তারা বলেছে ৬ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সিট খালি নাই, কিন্তু এখন তারা বলছে তাদের ফ্লাইট খালি। তাহলে এই টিকেটগুলো কোথায় গেল প্রশ্ন করে শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘এই সময়ে (৬ আগস্ট-১৫ আগস্ট) মানুষ সৌদি এয়ারলাইন্স থেকে টিকেট কিনেছে। তাই আর হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই।’ সব হজযাত্রীর জন্য টিকেট সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তারা নির্দিষ্ট সময়েই সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলেও জানান শাহাদাত হোসাইন।
গতবছর ভিসা জটিলতায় যাত্রী না পেয়ে ২৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল বিমান। তাতে ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় রাষ্ট্রায়ত্ব এই বিমান পরিবহন সংস্থা।
সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৯৮ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ১ লাখ ২০ হাজার জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার কথা ছিল। গত ১৪ জুলাই শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে হজ ফ্লাইট। আগামী ২৭ আগস্ট হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তা শেষ হবে।
চলতি বছরে ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি পৌঁছেছেন ৫১ হাজার ২৮৪ এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পৌঁছেছেন ৪৮ হাজার ৭৯ জন। তবে এর মধ্যে ৭২৭ জন হজ যাত্রী অসুস্থতা, মৃত্যুসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে স্বেচ্ছায় হজে যেতে পারেননি।
সারাবাংলা/জেএ/এমও