Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কসাইয়ের দাম-দর


২১ আগস্ট ২০১৮ ১৯:১৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে এরইমধ্যে যার যার সাধ্যমতো কোরবানির পশু কেনা শেষ। যারা এখনও পশু কিনে উঠতে পারেননি তাদেরও চিন্তার কিছু নেই, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাজারে এখনও পর্যাপ্ত পশু আছে এবং দামও নাগালের মধ্যে। তবে এখন পশুর চেয়ে বড় চিন্তার বিষয় কসাই নিয়ে। সারা শহর জুড়ে এই এক পেশার মানুষদের খোঁজই সবাই নিচ্ছেন।

কথা হয় পুরানো ঢাকার বাসিন্দা আবদুল সবুরের সঙ্গে। তারা তিন ভাই মিলে একটি গরু কোরবানি দেবেন। তারা জানান, তাদের বাধা কসাই আছেন। প্রতি বছরই এই এক কসাই তাদের গরু কোরবানি দেন এবং মাংস কাটেন। এ বছরও সেই একই কসাই গরু কাটবেন। এ কসাইয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তি গরুর দামের প্রতি হাজারে দেড়শ করে। সঙ্গে খুশি হয়ে যা মাংস দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

আবদুল সবুরের কসাইয়ের নাম হালিম মিয়া। বছরের বাকি সময় মাংসের দোকানে কাজ করেন আর ঈদে এলাকাবাসীর কোরবানির গরু কেটে দেন।

পুরানো ঢাকার সূত্রাপুর, ধোলাইখাল, মীরহাজিরবাগ, যাত্রাবাড়ি, সদরঘাট, আজিমপুর, গুলিস্তান এলাকায় গরুর দাম প্রতি হাজারে ১২০ থেকে ১৫০ টাকার কসাই মিলছে। অর্থাৎ গরুর দাম যদি হয় ৫০ হাজার টাকা তাহলে, গরুর মাংস কাটতে প্রতি হাজারে ১২০ হলে কসাই পাবেন ছয় হাজার টাকা এবং দেড়শ হলে পাবেন সাত হাজার পঞ্চাশ টাকা।

একই রকমের দাম মিরপুর, শ্যাওড়াপাড়া, আগারগাঁও এবং মোহাম্মদপুরেও। তবে লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, সেগুনবাগিচা, পল্টন, শান্তিনগর সিদ্ধেশ্বরীর দিকে কসাইরা হাজারে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন।

এখানকার কসাই আক্কাস আলি জানান, তারা বরাবর এরকম দামই নিয়ে থাকেন। তা ছাড়াও তার দাবি এ এলাকায় বেশিরভাগ বাড়ি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট হওয়ায় কোরবানি হয় বেসমেন্টে। সেখানে খুব অল্প সময়ে মাংস কাটার কাজ শেষ করতে হয়, এতে দলে লোক বেশি লাগে। তাই তাদের খরচ বেশি হয়।

নগরীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী এবং উত্তরার কিছু এলাকায় কসাইরা হাজারে তিনশ করেও টাকা নিচ্ছেন। তবে এই নিয়ে অভিযোগ নেই কসাই বা নাগরিক কারোই। দু পক্ষই এই ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট।

এ ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় মোট ৬০২টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে কোরবানির জন্য। ডিএসসিসির সচিব মো. শাহাবুদ্দিন খান সারাবাংলাকে জানান, এই ছয়শ দুইটি স্থানেই করপোরেশনের পক্ষ থেকে কসাই ও পশু কোরবানির ইমামের সেবা নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের অফিসে গেলে কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানের বিষয়ে জানা যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্ধাতির কোরবানির স্থানেও মিলবে কসাই। করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসমাল সারাবাংলাকে জানান, আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে আমরা ৫০০ জন কসাইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে তাদের থেকে সেবা নেওয়া যাবে। তবে করপোরেশন কোনো ফি নির্ধারণ করেনি। নাগরিকরা আলোচনার ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন।

বাজারে এত রকমের কসাইয়ের সুবিধা থাকার পরেও যারা কসাইয়ের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য আছে অনলাইন কসাইয়ের সেবা। www.sheba.xyy/kurbani অথবা www.facebook.com/butcher-shop ওয়েবসাইটে গেলে অনলাইনে কসাই বুকিং দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে কসাই গরুর দামের প্রতি হাজারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নিবে।

প্রায় সব এলাকাতেই কসাইরা নিজেদের সঙ্গে করে মাংস কাটার ছুটি, চাপাতি এবং কাঠের গুড়ি নিয়ে আসে। তবে যে বাঁশের চাটাইয়ে বসে মাংস কাটা হবে তা গরুর মালিককেই কিনতে হবে। প্রতিটি রাস্তার মোড়েই তাই জমে উঠেছে চাঁটাইয়ের বাজার। একশ সত্তর থেকে দুইশ টাকার মধ্যে মিলবে এসব চাঁটাই।

সারাবাংলা/এমএ/এমও