রাসেলকে ক্ষতিপূরণ দিতে আরও ৭ দিন সময় পেল গ্রিনলাইন
৪ এপ্রিল ২০১৯ ১৪:৫৬ | আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:২০
ঢাকা: যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ফের সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই দিন পরিবহনটির মালিক মো.আলাউদ্দিনকে আদালতে হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নইলে ১১ এপ্রিল গ্রিনলাইনের সব টিকেট বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে সকালে আদালতের আদেশ বস্তবায়ন না করায় গ্রিনলাইন পরিবহনের ম্যানেজারকে তলব করেন আদালত।
আদালতের আদেশ মোতাবেক দুপুরে ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার আদালতে হাজির হন। শুনানির শুরুতে বিআরটিসির পক্ষে আইনজীবী এস এম মনিরুজ্জামান ব্যাখ্যা দাখিল করেন।
পরে গ্রিনলাইনের আইনজীবী অজিউল্লাহর কাছে আদালত জানতে চান গ্রিনলাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক হাজির হয়েছেন কিনা।
জবাবে অজিউল্লাহ বলেন, জ্বি উনি এসেছেন। এসময় আদালত ব্যবস্থাপককে ডেকে বলেন আমরা শুনি উনি কী বলেন।
আদালত ব্যবস্থাপকের নাম জানতে চাইলে এজলাসের সামনে দাড়িঁয়ে ম্যানেজার তার নাম বলেন।
আদালত জিজ্ঞেস করে আপনি কি ম্যানেজার? জবাবে ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার বলেন, জ্বি স্যার।
তখন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক জানতে চান আপনাদের উনি (গ্রিনলাইনের মালিক) কোথায়? জবাবে ব্যবস্থাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, উনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ৩১ তারিখ ভারতে গিয়েছেন। ৯ এপ্রিল দেশে আসবেন।
তখন আদালত জানতে চায় কখন গেছেন? ব্যবস্থাপক বলেন, সকালে গেছেন।
এ বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় এবং পরে আমাদের আদেশটা কি উনাকে অবহিত করেছেন? আপনাদের কোনো নির্দেশ দিয়ে যান নাই?
টেলিফোনে বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
আপনাদের লেনদেন কীভাবে চলে?
উনি নিজেই করেন। তার স্বাক্ষরেই চেকে আর্থিক লেনদেন হয়।
এ সময় গ্রিনলাইনের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, আপনার মক্কেল দেশে নেই, এ বিষয়ে আদালতে কোনো আবেদন দাখিল করেননি। আপনার উচিত ছিল এ ধরনের আবেদন দাখিল করা। আপনি কোনো পদক্ষেপই নেননি। আদালতের আদেশ নিয়ে এ ধরনের বিষয় টলারেট করবো না।
আদালত বলেন, উনি ৯ এপ্রিল দেশে আসবেন, ১০ এপ্রিল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে হলফনামা দিবেন। না হলে সব বাস সিজ করে ফেলব।
এ সময় রিটকারীর আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা ‘রাসেলকে ক্ষতিপূরণ দেবে না গ্রিনলাইন, একাট্টা পরিবহন মালিকরা’ শিরোনামে সারাবাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করে বলেন, ক্ষতিপূরণের আদেশ আপিল বিভাগে বহালের পরেই মালিককে কারসাজি করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালত গ্রিনলাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপককে উদ্দেশে করে এসময় বলেন, ১০ তারিখে আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। যদি আদেশ বাস্তবায়ন না করেন তাহলে ১১ তারিখের কোনো টিকিট বিক্রি করবেন না। জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলবেন না।
আরও পড়ুন: ক্ষতিপূরণ না দিলে গ্রিনলাইনের সব বাস জব্দ, ম্যানেজারকে তলব
পরে গ্রিনলাইনের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, মিস্টার অজিউল্লাহ, ম্যানেজার সাহেব হাজির হয়ে বলেছেন উনি ইন্ডিয়া গেছেন চিকিৎসার জন্য, ৯ তারিখ ফিরবেন। ১১ তারিখ কোনো টিকিট বিক্রি করবেন না। ১০ তারিখ টাকা দিতে না পারলে টিকিট বিক্রি করবেন না।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ১০ তারিখের মধ্যে আমাদের আদেশের বাস্তবায়ন না হলে আইন অনুযায়ী যে ধরনের আদেশ দেওয়া দরকার তাই দিব।
।
এর আগে,গত ৩১ মার্চ তিন দিনের মধ্যে পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাসেল ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় ফের আজ আদালতে আসে বিষয়টি। এদিন আদালতে হাজির হন রাসেল সরকারও।
সারাবাংলা/এজেডকে/জেডএফ