Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ধানমন্ডিতে মেহমানখানায় একবেলা!


৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৩:০৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাফিয়া চৌধুরী, সারাবাংলা ডটনেট

বেলা সাড়ে ১২ টা। ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড। আবাহনী মাঠের ঠিক উল্টো পাশ। একদল মানুষের জটলা। কি হয়েছে?
একটু সামনে এগোতেই একটা ব্যানার চোখে পড়লো। সেখানে লেখা আমিন মোহাম্মদ মেহমান খানা। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ির গেট খুলে গেলো। বাড়ির সামনে হাজির পিকআপ ভ্যান। গাড়িতে আসা বড় বড় দুই ডেগ খাবার নামলো। ডেগ খোলার আগে থালা দেওয়া হলো।

জটলা বাধা লোকগুলো এবার সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছে। সবাই থালা নিয়ে অপেক্ষা করছে। খাবারও তৈরি, তবে অপেক্ষা কিসের জন্য?

পাশ থেকে খাবার বিতরণকারীরা বলাবলি করছে, ‘এখনই দিবি, নাকি আরও খাবার আসলে একসঙ্গে দিবি।’

অপর পাশের জবাব, ‘কিছু খাবার দেওয়ার পর বাকিরা অপেক্ষা করবে, এটা ভালো দেখায় না। একসঙ্গে সব খাবার দিবো।’

বিজ্ঞাপন

পাঁচ মিনিট পরে একটা পিকআপ ভ্যান দাঁড়ালো। সেখান থেকে নামলো আরও চার ডেগ খাবার। এবার খাবার বিতরণের পালা। সবাই শৃঙ্খলা মেনে খাবার নিচ্ছে। কেউ রিকশা চালিয়ে এসেছে। কেউ এসেছে আশেপাশের হাসপাতাল থেকে খাবার নিতে, এই মেহমান খানায়।

বাসায় যেমন মেহমান আসলে আপ্যায়ন করা হয়। এই মেহমান খানায়ও ঠিক সেভাবে আপ্যায়ন করা হয়। কেউ খালি হাতে ফিরে না। সবাই তাদের চাহিদা মতো খাবার নিয়ে যায় এখান থেকে। খিচুরি দিয়ে মুরুগি।
আশে পাশে যারা খাচ্ছে, তাদের খাওয়া দেখে বোঝা যাচ্ছে খাবার খুব সুস্বাদু।

রিকশাওয়ালার নাম আলিম। বাসা যাত্রাবাড়ি এলাকায়। কিন্তু তিনি প্রতিদিন দুপুরের দিকে ধানমন্ডি এলাকায় ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করেন। বললেন, ‘ভাড়া না থাকলেও এখানে এসে খাওয়ার চেষ্টা করি। এদের রান্নাটা ভালো লাগে।আমি প্রায় প্রতিদিনই এখানে এসে খাওয়ার চেষ্টা করি।’

‘আগে মাঝে মাঝে বিরিয়ানি দিতো। ভাত, ডাল, সবজি দিতো। প্রথম দিকে তাদের রান্না এতো ভালো লাগতো। আঙ্গুলটাও চেটে চেটে খেতাম।’

আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের হেড অব মিড়িয়া গাজী আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ২০১৫ সালের দিকে রোজার দিনে কিছু খেঁজুর ও পানি দিতাম। সেখানে অনেক রোজদার মানুষের ভিড় হতো। সেখান থেকে আমাদের চেয়ারম্যানের মনে হলো আমরা প্রতিদিনি দুপুরে মানুষকে খাওয়াবো। সেই থেকে আমরা প্রতিদিন এটা চালু করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ১৫০ কেজি চাল, ৪০ কেজি ডাল ও ৫০ কেজি মুরগির মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয়। এই খাবারের কিছুই বাকি থাকে না। সবই আমরা বিতরণ করে দেই।’

সারাবাংলা/এসআই/ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭

বিজ্ঞাপন

আরো