হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনায় গ্যাস নিতে সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপনে প্রায় ৬শ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। এরই মধ্যে অনুমোদনের জন্য প্রকল্পের সারাংশ জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান এ প্রসঙ্গে সারাবাংলাকে বলেন, ভোলা থেকে গ্যাস দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করতে আমরা একটি প্রকল্প নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস সঞ্চালন পাইলাইন স্থাপনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ভোলা থেকে খুলনা পর্যন্ত ১৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন। ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
পেট্রোবাংলা ধারণা করছে, ভোলা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে দৈনিক এক দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশাদ ইসলাম ভোলার গ্যাস ক্ষেত্র সম্পর্কে সারাবাংলাকে বলেন, এই গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর ও দক্ষিণে আরও কুপ খনন করা হবে। আমাদের তথ্য বিশ্লেষনে ভোলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র। ভোলার শাহবাজপুর ও ভেদুরিয়া মিলে মজুদের পরিমাণ প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। আর সর্বশেষ পাওয়া ভেদুরিয়া গ্যাস ক্ষেত্রে মজুদ ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট। গত ১৫ জানুয়ারি ভেদুরিয়ায় গ্যাস পাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বাপেক্স।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর ভোলা উত্তর-১ নামে একটি কূপ খননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বাপেক্স ২০০৯ সালের ১১ মে ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন শুরু করে। এটি ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র নামে পরিচিত। ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তর গ্যাসক্ষেত্রটির দূরত্ব প্রায় ৩৭ কিলোমিটার।
সারাবাংলা/এইচএ/এসআই